শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের ৮ উপজেলায় ৫৪ ভোটকেন্দ্রে রদবদল

যশোরের ৮ উপজেলায় ৫৪ ভোটকেন্দ্রে রদবদল
গ্রাফিক্স

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে যশোরের আট উপজেলায় ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকায় ব্যাপক রদবদল এনেছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়। নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সংশোধন, ঝুঁকিপূর্ণ বা জরাজীর্ণ ভবন পরিবর্তন, নতুন কেন্দ্র নির্ধারণ, দুটি কেন্দ্র বিলুপ্তি এবং ওয়ার্ড পুনর্গঠনের সূত্রে ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাসসহ সব মিলিয়ে মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই জেলার ৮১৯টি খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি দাখিলের সময় দেওয়া হয়েছিল। প্রাপ্ত সাতটি আবেদনের নিষ্পত্তি শেষে এই চূড়ান্ত সম্ভাব্য তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। ‘ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসরণ করে অবকাঠামো, কক্ষ সংখ্যা, যোগাযোগ সুবিধা, খেলার মাঠের উপস্থিতি ও ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ শরিফুল ইসলাম।

 

শার্শা (১৯টি): জেলায় সর্বাধিক রদবদল হয়েছে শার্শায়। উপজেলার ১১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টির নাম সংশোধন করা হয়েছে। যেমন—রহিমপুর আলিম মাদ্রাসা পরিবর্তন হয়ে রহিমপুর ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, লক্ষণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়েছে লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বড় মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে বিএম শ্রীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঘিবা দাখিল মাদ্রাসা হয়েছে ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। পাশাপাশি বেনাপোল পৌরসভার সীমানা পরিবর্তন ও অবকাঠামো বিলুপ্তির কারণে ধান্যখোলা, উত্তর কাগজপুকুর ও আমড়াখালীর কেন্দ্রগুলোতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে।

ঝিকরাগাছা (১০টি): আটটি বিদ্যমান কেন্দ্র পরিবর্তনের পাশাপাশি দুটি স্থানে ভোটার এলাকা পুনর্গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের গত ১১ জুনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্বাসখোলা ইউনিয়নে ওয়ার্ড পুনর্গঠন করে মির্জাপুর-খরুষা এবং রাজারডুমুরিয়া-বেড়ারুপানি এলাকা যুক্ত করার প্রভাবে এই পরিবর্তন আসে।

মনিরামপুর (৮টি): ভৌগোলিক সীমানা ও স্থানীয় যাতায়াত সুবিধা বিচারে ৮টি কেন্দ্র সরানো হয়েছে। ফলে ভোজগাতী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জায়গায় টুনিয়াঘরা মহিলা আলিম মাদ্রাসা, শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলে শ্রীপুর আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসা, বাকোশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থলে জালঝাড়া নুরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাঘারপাড়া (৫টি): ভোটার বৃদ্ধি ও যাতায়াত সুবিধার কথা চিন্তা করে বন্দবিলা ইউনিয়নের খাজুরা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে বিদ্যমান কেন্দ্রের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নারিকেলবাড়িয়াতেও কেন্দ্র বদল হয়েছে।

যশোর সদর (৩টি): ফতেপুর ইউনিয়নে অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল একটি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। অন্য দুটি পরিবর্তনের মধ্যে লেবুতলা ইউনিয়নে আনসার ভিডিপি ক্লাবের বদলে একই স্থানে থাকা লেবুতলা দক্ষিণপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

অভয়নগর (৩টি): বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলে বাহিরঘাট মেছেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং চেঙ্গুটিয়ার পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বদলে আরাজি বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করা হয়েছে। এছাড়া ধোপাদী পশ্চিমে অস্তিত্বহীন ব্র্যাক স্কুলের জায়গায় সঠিক নাম সংশোধন করা হয়।

কেশবপুর (৩টি): পর্যাপ্ত কক্ষ, বড় মাঠ ও প্রধান সড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় আড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে আড়ুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে কেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া শংকরপুর ও হরিদ্রাপোতা ইউনিয়নে কেন্দ্রসংক্রান্ত সংশোধন আনা হয়েছে।

চৌগাছা (৩টি): উপজেলার সিংহঝুলী, মাড়ুয়া ও হাকিমপুর ইউনিয়নে একটি করে মোট তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

উলাশী ইউনিয়নের যদুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি সরিয়ে বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় ওসমান গনি গত ১৭ আগস্ট একটি আবেদন করেন। তবে ২০ আগস্ট সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বর্তমান যদুনাথপুর কেন্দ্রটি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত, অন্যদিকে প্রস্তাবিত বড়বাড়িয়া কেন্দ্রটি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অংশ। ভৌগোলিক সীমানা জটিলতার কারণে নির্বাচন অফিস আবেদনটি নাকচ করে যদুনাথপুর কেন্দ্রটিই বহাল রাখে।

জনপ্রিয়