আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টরসহ ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার
জুলাই আন্দোলনে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সিন্ডিকেট সভার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের আদেশের কপি পাওয়ার পর তা সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম। মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ পলাতক রয়েছেন এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কারাগারে রয়েছে।
বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া, কর্মচারী আনোয়ার পারবেজ আপেল এবং এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি আমরা গত পরশুদিন পেয়েছি। কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত।
গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার আছেন। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, আর বাকি আসামিদের দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের সাজা।
পলাতক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান এবং ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, নিরস্ত্র একজন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। তারা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে উল্টো আক্রমণকারীদের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন, যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।



























