বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আজ রাত ১২টা থেকে বন্ধ ইলিশ ধরা, চলবে ২২ দিন

আজ রাত ১২টা থেকে বন্ধ ইলিশ ধরা, চলবে ২২ দিন
ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশের উপকূলীয় নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করছেন উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে।

নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে বঙ্গোপসাগর, তেঁতুলিয়া নদীসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, নৌপুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ টহল জোরদার করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারি চাল বিতরণ কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

তবে নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই ভালো নেই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলেদের অবস্থা। মৌসুমের শুরু থেকে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবার এরই মধ্যে ঋণের চাপে পড়েছে। এখন মাছ ধরার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ, মৌডুবী, বড়বাইশদিয়া, ছোটবাইশদিয়া ও চালিতাবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা জানান, নদী ও সাগরে প্রজনন মৌসুমে অবৈধ জালের ব্যবহার, নাব্যতাসংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যায়নি।

জেলেদের ভাষ্য, মাছ ধরার প্রস্তুতিতে নতুন জাল কেনা, ট্রলার মেরামত এবং বাড়তি দামে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে তাদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। সেই অর্থের একটি বড় অংশ এসেছে এনজিও, ব্যাংক ও দাদনদারদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ থেকে।

কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ না পাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় আয়-রোজগার বন্ধ থাকবে। ফলে সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলেরা।

জেলেদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে না পেলে তাদের পরিবারগুলোকে আরও কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

জনপ্রিয়