শুক্রবার ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

২৬ দেশে কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

২৬ দেশে কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বের অন্তত ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক বড় বাজারে রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক আয় কমেছে। তবে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি বাজারে রপ্তানি বাড়ায় খাতটিতে আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে।

রফতানি উন্নয়ন সংস্থা (ইপিবি) ও পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই ছয় মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি হয়েছে ৯ হাজার ৪৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক হলেও গত বছরের তুলনায় আয় কমেছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও ক্রোয়েশিয়াতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানিতে রপ্তানি ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৮৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফ্রান্সে কমেছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ডেনমার্কে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বেলজিয়ামে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

তবে ইউরোপের সব বাজারে চিত্র এক নয়। স্পেনে রপ্তানি ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পোল্যান্ডে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং নেদারল্যান্ডসে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক বাজার। জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি প্রায় স্থবির, মাত্র শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে। নিট পোশাকে সামান্য প্রবৃদ্ধি থাকলেও বোনা পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় মোট আয় হ্রাস পেয়েছে।

নতুন বা অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে প্রধান পতনশীল দেশগুলো হলো- রাশিয়া: ১৪৯ থেকে ১০৯ মিলিয়ন (-২৬.৬৩ শতাংশ), তুরস্ক: ২২৩ থেকে ১৬৫ মিলিয়ন (-২৫.৮০ শতাংশ), মেক্সিকো: ১৮৪ থেকে ১৫০ মিলিয়ন (-১৮.৬৬ শতাংশ), কোরিয়া: ২৩১ থেকে ২০১ মিলিয়ন (-১২.৮৪ শতাংশ), ভারত: ৩৭৬ থেকে ৩৩৭ মিলিয়ন (-১০.৪৪ শতাংশ)।

এর বিপরীতে কয়েকটি দেশে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চীনে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সৌদি আরবে রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় সব প্রধান বাজারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের দাম কমানোর চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি সারা বিশ্বের রপ্তানি বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার বহুমুখীকরণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত না করলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয়