সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা
অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সিলিন্ডারের দাম নতুন করে নির্ধারণ এবং ডিলারদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধের দাবিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দুই দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকায় কোনো দোকানেই পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি দোকানে সীমিত সিলিন্ডার থাকলেও দাম নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত।
ইব্রাহিমপুর এলাকার এলপিজি ব্যবসায়ী আরাফাত বলেন, “১২ কেজির এলপি গ্যাস ২১০০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এই এলাকায় প্রায় কোনো দোকানেই গ্যাস নেই। চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছি না। ডিস্ট্রিবিউটর ও কোম্পানি উভয়েই দাম বেশি রাখছে। ১৩৭০ টাকার গ্যাস কোম্পানি থেকেই ডিস্ট্রিবিউটররা বেশি দামে নেয়, আর আমাদেরও দুই হাজার টাকার বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ কোথাও গ্যাস নেই। রাতে টঙ্গী থেকে সিলিন্ডার এনেছি। ২১০০ টাকায় কিনে ২৩০০ টাকায় বিক্রি করছি।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় ব্যবসায়ী সমিতি। নির্দেশনায় বলা হয়, সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।
এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবিগুলো তুলে ধরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে ডিলারদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে।
সমিতি জানায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। আজ বিকেল ৩টায় বিইআরসির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মানা হলে বিক্রি শুরু হবে, না হলে বিক্রি বন্ধ থাকবে।”



























