বুধবার ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ৪ মার্চ ২০২৬

ছুরিকাঘাতে নিহত ইবি শিক্ষিকা, আত্মহননের চেষ্টা কর্মচারীর

ছুরিকাঘাতে নিহত ইবি শিক্ষিকা, আত্মহননের চেষ্টা কর্মচারীর
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে বিকেলে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। অফিস সময় শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে হঠাৎ চিৎকার শোনা যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে আসমা সাদিয়া রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল-এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই শিক্ষিকার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। তার গলা, হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আহত কর্মচারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিভাগীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি আসমা সাদিয়া রুনা সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ফজলুর রহমানকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। এ বদলি নিয়ে অসন্তোষ ছিল বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষোভের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

সর্বশেষ