শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ডিআইইউ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৪২, ১১ জুন ২০২৬

সেমিস্টার ফাইনাল মিস, ডিআইইউতে প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ

সেমিস্টার ফাইনাল মিস, ডিআইইউতে প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত

সেমিস্টার ফি বকেয়া থাকার কারণে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) প্রক্টর অফিস অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুন) পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন। পরে তারা তাদের দাবিসংবলিত একটি লিখিত আবেদন প্রক্টরের কাছে জমা দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বকেয়া টিউশন ফি পরিশোধ না করায় বহু শিক্ষার্থীকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, এক্সাম পারমিশন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর, প্রতিটি সেমিস্টারের ন্যূনতম সময়কাল ছয় মাস নিশ্চিত করা, ক্লাসরুম সংকট নিরসন, পর্যাপ্ত ক্লাস গ্রহণ, টিউশন ফি-সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যে ফি পরিশোধের সুযোগ নিশ্চিত করা।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, ‘ছয় মাসের সেমিস্টার চার থেকে সাড়ে চার মাসে শেষ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে আমরা পর্যাপ্ত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে সেমিস্টার ফি পরিশোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে।’

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাগর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সমস্যার বিষয়ে সহনশীলতা না দেখিয়ে উল্টো অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, যা কখনোই কাম্য ছিল না।’

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আরেক শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম আকাশ বলেন, ‘দুই মাস আগে আমার বাবা মারা গেছেন। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে টিউশন ফির একটি অংশ পরিশোধ করতে বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও আমাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।’

শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহকারী প্রক্টরের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আরেক শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, ‘একটি বড় ঈদের পরপরই পরীক্ষা শুরু হওয়ায় অনেক পরিবারেরই টাকা পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব বা অসুবিধা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবুও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সময় না দিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া খুবই অমানবিক কাজ।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। শুধু মাত্র একটি ডিপার্টমেন্টে প্রায় ৪২ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি এবং সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছি।’

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে তাদের দাবিপত্র জমা দেন। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

জনপ্রিয়