“বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ‘থ্রিআর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার”
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘থ্রিআর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের জন্য সরকার তিন ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিকল্পনাকে ‘থ্রিআর (রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন) কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে এক বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ নিশ্চিত করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এই তিন ধাপের কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করা হবে। এর ফলে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও ব্যয় হ্রাস পাবে এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের গৃহীত এসব উদ্যোগ বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী সেবা খাত এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার, বন্ড বাজার ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সকল বিনিয়োগসেবা এক ছাতার নিচে এনে ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়ে বাজেটের অষ্টম অধ্যায়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য রাষ্ট্রকে কোনো প্রতিবন্ধক শক্তি হিসেবে নয়, বরং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। এই ধারাবাহিক সংস্কারের ফলে শুধু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ হবে না, বরং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি আরও মজবুত হবে এবং কর্মসংস্থানের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।
সূত্র: বাসস



























