শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২২, ১২ জুন ২০২৬

যমুনা ঘেরাও আন্দোলনের ফসল: ১০ হাজারের বেশি জবি শিক্ষার্থীর হাতে আবাসন বৃত্তির চেক

যমুনা ঘেরাও আন্দোলনের ফসল: ১০ হাজারের বেশি জবি শিক্ষার্থীর হাতে আবাসন বৃত্তির চেক
ছবি: প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটে ভুগতে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আবাসন বৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জবি শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ‘যমুনা ঘেরাও’ আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের পর সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আবাসন বৃত্তি প্রদানের আশ্বাস দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হলো।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আবাসন বৃত্তির জন্য মোট ১০ হাজার ৬০০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের আবাসন ব্যয় বহনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সমস্যার মধ্যে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে সরকার যে বিশেষ আবাসন বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে, তা শিক্ষার্থীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও স্থায়ী আবাসন সংকট সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।”

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “যমুনা ঘেরাও আন্দোলন ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি ঐতিহাসিক সংগ্রাম। আজকের এই বৃত্তি সেই আন্দোলনেরই বাস্তব অর্জন। আমরা চাই, ভবিষ্যতে জবি শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হোক।”

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির ফলেই এই বৃত্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে কেবল বৃত্তি দিয়ে আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে।”

জবি ছাত্রশিবির সভাপতি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন, ঐক্য ও ত্যাগের ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসন আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন আইন বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রুপা খাতুন। তিনি বলেন, “ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করতে গিয়ে আবাসন ব্যয় বহন করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এই বৃত্তি আমাদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।”

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীবান্ধব এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতীকীভাবে আবাসন বৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়