যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য
কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ‘বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি: প্রমাণ, হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত প্রভাব’ (Micronutrient Deficiencies among Adolescent Girls in Bangladesh: Evidence, Interventions and Policy Implications) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টায় যবিপ্রবির অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ এবং যবিপ্রবি রিসার্চ সেলের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রির পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ। উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েদের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসহ প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির ঘাটতি, এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব-ড. ফারুক আহমেদ তাঁর গবেষণার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন। গবেষণাকে সফল করতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে গবেষণালব্ধ ফলাফল শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে এবং সরকারি নীতি প্রণয়নে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত উপাত্তের ভিত্তিতে মানসম্পন্ন টেক্সটবুক রচনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, কৈশোরকালীন মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা শুধু তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী, যাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ কর্মক্ষম। তারা একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। গবেষণালব্ধ তথ্য ও সুপারিশগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানোর জন্য তিনি জোর আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান এবং ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার। এছাড়া বক্তব্য দেন যবিপ্রবির রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজ উদ্দীন মনির।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা-তুজ-জোহরা।



























