একই পথে ভাড়া দ্বিগুণ, গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দৈনন্দিন যাতায়াতে অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় চালকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। অনেক সময় ভাড়া নিয়ে কথা বলতে গেলে চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকারও হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পাচুরিয়া ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
আগে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাস চলাচল করায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো। তবে বর্তমানে ক্যাম্পাস থেকে আনসার মাঠ এবং ঘোনাপাড়া হয়ে পাচুরিয়া পর্যন্ত বাস চলাচল করলেও আগের মতো ঘণ্টাভিত্তিক বাসসেবা চালু নেই। এতে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁদের অটোরিকশা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা থাকলেও বাকি ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন এলাকায় মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। ক্লাস, টিউশনিসহ নানা প্রয়োজনে তাঁদের প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই গন্তব্যে যেতে একেক চালক একেক রকম ভাড়া দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোবরা, নিলারমাঠ ও সোনাকুড় যেতে কোনো চালক জনপ্রতি ৫ টাকা নিলেও অন্য চালক ১০ টাকা দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে যাওয়ার সময় ১০ টাকা ভাড়া নিলেও ফেরার পথে একই ভাড়া দিতে চান না কেউ কেউ। অনেক সময় এসব এলাকায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অটোরিকশায় উঠতেও দেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকায় এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হয়। বিশেষ করে রাতে নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, অটোরিকশার ভাড়া ও চালকদের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি ও চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন জায়েফ বলেন, “সব সময় বাসের সময়সূচির সঙ্গে আমাদের যাতায়াতের সময় মেলে না। ফলে বাধ্য হয়েই অটোতে উঠতে হয়। কিন্তু অটোতে উঠলেই ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিলারমাঠ ও সোনাকুড়ের প্রচলিত ভাড়া ৫ টাকা হলেও অনেক চালক ১০ টাকা দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় ৫ টাকা ভাড়া নিলেও ফেরার পথে ১০ টাকা চান। ১০ টাকা দিতে না চাইলে অনেক সময় অটোতে তুলতে চান না। বিশেষ করে রাতে ৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকাও দাবি করেন কেউ কেউ। আবার নতুন শিক্ষার্থীরা ভাড়া সম্পর্কে না জানায় তাঁদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটে।”
ভোগান্তির বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা নাসরিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে যাতায়াত করতে গিয়ে শুরু থেকেই অটোভাড়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু যারা নিয়মিত এই পথে চলাচল করি, তাদের জন্য বেশ বিরক্তিকর। নিলারমাঠ, গোবরা, চরঘাটা, ঘোনাপাড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে ক্যাম্পাসে আসতে সাধারণত ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু অটোতে উঠলেই অনেক সময় ১০ টাকা দাবি করা হয়। ১০ টাকার নোট দিলে বলা হয়, তাঁদের কাছে ৫ টাকা নেই। কখনো আবার অন্য অজুহাত দেখানো হয়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে চালকরা বলেন, ‘৫ টাকা না থাকলে অটোতে উঠেছেন কেন?’”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় সন্ধ্যার পর বা রাতে। কোনো কারণে ফিরতে একটু দেরি হলে একই পথের ভাড়া দ্বিগুণ দাবি করেন চালকরা। তখন প্রয়োজনের তাগিদে বাড়তি ভাড়া দিয়েই ফিরতে হয়। ভাড়া নিয়ে কিছু বলতে গেলেও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কথা শুনতে হয়, তর্কে জড়াতে হয়। প্রতিদিন যাতায়াতের সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়া সত্যিই অস্বস্তিকর। অন্তত ভাড়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা উচিত, যাতে সময় বা পরিস্থিতির অজুহাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান বলেন, “এ বিষয়ে এর আগে সরাসরি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতিটি রুটের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা থাকা উচিত। আমরা এসব রুটে চলাচলকারী অটোরিকশা মালিক সমিতির সঙ্গে বসে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়ার তালিকা তৈরি করে দেব, যাতে এ নিয়ে তাঁদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।”



























