রোববার ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

রাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:১০, ৮ নভেম্বর ২০২৬

রাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ছবিঃ প্রতিনিধি

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে, বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। সেই ভাবনা থেকেই রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও  ম্যানেজমেন্ট বিজনেস সোসাইটি (এমবিএস) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো বিজনেস কেস প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক আসিফা নার্গিস ও প্রভাষক মো. মাসুম।

প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১৫টি দল অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জমা দেওয়া স্লাইড ও প্রস্তাবিত সমাধান মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেখান থেকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৬টি দল নির্বাচন করা হয়।

রাবিপ্রবিতে প্রথমবার বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা আয়োজনের চিন্তা কীভাবে এলো এবং এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে এমবিএস সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা বিশ্লেষণ, যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আর্থিক বিশ্লেষণ, দলগত কাজ এবং কার্যকর উপস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই কর্পোরেট জগতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।"

প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের কী ধরনের ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে কোন মানদণ্ডে এই বিষয়ে তিনি বলেন, "প্রতিযোগিতার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখার জন্য কেস প্রকাশের সময়ই অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট মূল্যায়ন মানদণ্ড জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ব্যবসায়িক সমস্যা অনুধাবন, বিকল্প সমাধান বিশ্লেষণ, আর্থিক বিশ্লেষণ, সুপারিশ প্রণয়ন ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনবল ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উপস্থাপনার দক্ষতা এবং বিচারকদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা। এসব নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতেই প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।"

ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আজকের এই আয়োজনকে আমরা একটি পাইলট উদ্যোগ বা পরীক্ষামূলক আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করছি। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা চাই, রাবিপ্রবিও একসময় জাতীয় পর্যায়ের বিজনেস কেস প্রতিযোগিতার একটি পরিচিত ও স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।"

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিবুল হাসান বলেন, "আমি প্রথমবারের মতো বিজনেস কেস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। নতুন চ্যালেঞ্জ, টিমওয়ার্ক আর বাস্তব সমস্যাকে ভিন্নভাবে চিন্তা করার সুযোগ থেকে শিখেছি অনেক কিছু। আর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যদি বলি, প্রাপ্তি শুধু ফলাফলে নয়, বরং এই যাত্রায় অর্জিত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসে।"

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতাই দিবে না, বরং তাদের বাস্তবমুখী দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং পেশাগত প্রস্তুতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য,আগামীকাল ৯ নভেম্বর ম্যানেজমেন্ট দিবসে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। 

জনপ্রিয়