শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাবিপ্রবিতে

প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বেশি শিক্ষার্থীর আবাসনসুবিধা নেই

প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বেশি শিক্ষার্থীর আবাসনসুবিধা নেই
ছবিঃ প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসিক হলের ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অস্থায়ী আবাসিক হলের সীমিত আসনে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

৫টি বিভাগে ১ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী থাকলেও হলের সুবিধা রয়েছে মাত্র ১৮৪ জনের। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার যাঁদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, তা-ও ভাড়া করা ভবনে। ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে ভাড়া করা ভবনে হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ৭০ জন ছাত্রী থাকতে পারেন। আর ছাত্রদের মধ্যে হলে থাকতে পারেন ১১৪ জন। তাঁদের হল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে শাহ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে।

অস্থায়ী হলে আসন না পাওয়া শিক্ষার্থীরা রাঙ্গামাটি শহর এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় মেস ও বাসায় থাকেন। তাঁদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলের বাইরে থাকায় মাঝেমধ্যে দুশ্চিন্তা হয়, কেননা এখানকার পরিস্থিতি অনেক সময় নানা কারণে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। হলে থাকলে এত কিছু ভাবতে হতো না।

রাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন অর্নব বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি যে নতুন যিনি দায়িত্ব পেয়েছে ওনার মাধ্যমে দ্রুতই আমাদের যে আবাসিক সংকট আছে, দ্রুতই আবাসিক সংকট কেটে যাবে। আমি ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে প্রত্যাশা রাখি, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই হলগুলোর কাজ সম্পন্ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আরেকটি হলের ব্যবস্থা যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করে, এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।”

ম্যানেজমেন্ট বিজনেস সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী হলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে আবাসন সংকট নিরসনের জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আসনসংকটের কারণে যাঁরা হলে থাকতে পারছেন না, তাঁদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”

সিএসই কম্পিউটার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুর আবিদ বলেন, “আবাসন সংকট আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বাইরে মেস বা বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের পাশাপাশি পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। আমরা মনে করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, দ্রুত আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্মাণাধীন আবাসিক হলের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন ২০২৫ থেকে স্থায়ী ছাত্রী হলের কাজ শুরু হয় এবং ১০ জুলাই ২০২৫ থেকে ছাত্র হলের কাজ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, এখনো ২০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। তাঁদের ভাষ্যমতে, ছাত্রী হলের কাজ চলমান থাকলেও ছাত্র হলের কাজ বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়