এফডিসির পাশ দিয়ে গেলে মনটা কাঁদে : ববিতা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি দিনের কথা উঠলেই যে নামটি সবার আগে স্মরণে আসে, তিনি কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে এফডিসির আঙিনায় পা রেখেছিলেন তিনি। যে প্রাঙ্গণ একসময় ছিল তার কর্মজীবনের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেই এফডিসিই তার কাছে হয়ে উঠেছে অচেনা ও বেদনাবিধুর স্মৃতির জায়গা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা এবং এফডিসির পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও হাহাকার প্রকাশ করেন ববিতা। তিনি বলেন, ‘আমার গাড়ি যদি এফডিসির পাশ দিয়ে যায়, একবার তাকাই ঠিকই, কিন্তু আর ভালো লাগে না। মনটা কাঁদে। এই এফডিসি কেমন হয়ে গেছে! সেই ১৩ বছর বয়স থেকে যখন খেলাধুলা করি, তখন থেকেই আমি এখানে ইন করেছি। প্রায় ৩০০ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে সকাল-বিকাল-রাত, এমনকি তিন শিফটেও কাজ করেছি। অথচ এখন সেই ফ্লোরগুলো আগের মতো নেই, কোনো কোনোটা ভেঙে ফেলা হয়েছে।’
বর্তমান এফডিসিতে সিনেমার চেয়ে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য কাজ বেশি হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখন তো ভেতরে সব ফাঁকা। এফডিসিতে শুটিং বলতে এখন বোধহয় শুধু এডের কাজই হয় বেশি, ছবি কম হয়।’
সিনেমা নির্মাণে গুণী পরিচালকদের অভাবের কথাও তুলে ধরেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তার ভাষায়,
‘একজন জহির রায়হান নেই, একজন খান আতা, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত কিংবা নারায়ণ ঘোষ মিতা—তারা কেউ নেই। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবতী যে এমন বড় বড় পরিচালকদের সিনেমা করতে পেরেছি। কিন্তু এখনকার পরিচালকদের সেই তালিকায় কোথায় খুঁজবো?’
এফডিসির প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়েও স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন ববিতা। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরামর্শ নেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নে তার সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘না, এখন ডাকে না। কারে ডাকবে? কাকে ডাকবে? এফডিসির এমডি যিনি, তাকে তো চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানতে হবে। তিনি হয়তো বিরাট সেক্রেটারি বা অনেক কিছু হতে পারেন, কিন্তু ফিল্মের জ্ঞান না থাকলে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।’
ববিতার এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আক্ষেপ নয়, বরং ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকট ও সম্ভাবনার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি—যেখানে অতীতের গৌরব আর বর্তমানের শূন্যতার মধ্যে দাঁড়িয়ে শিল্পীরা খুঁজছেন নতুন পথের দিশা।



























