বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এখন সব বিপ্লব সোশ্যাল মিডিয়ায় হয় : স্বস্তিকা মুখার্জি

এখন সব বিপ্লব সোশ্যাল মিডিয়ায় হয় : স্বস্তিকা মুখার্জি
ছবি: সংগৃহীত

স্বস্তিকা মুখার্জি স্পষ্টভাষী, আত্মবিশ্বাসী এবং বরাবরই নিজস্ব অবস্থানে অনড়। সামাজিক মাধ্যম হোক কিংবা বাস্তব জীবন, নিজের মত প্রকাশে কখনও পিছপা হন না এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান সমাজব্যবস্থা, সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর ‘বিপ্লব’ এবং ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়েছেন ২০২৬ সালের জন্য নেওয়া নিজের বিশেষ এক সংকল্পের কথাও।

ছোটবেলা থেকে পাড়া-প্রতিবেশীদের ‘মামা’, ‘কাকা’ বা ‘দাদা’ সম্বোধন শুনে বড় হলেও জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় মায়ের মৃত্যুর দিন। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্বস্তিকা জানান, “মায়ের মৃত্যুর পরদিন সকালেই এক প্রতিবেশী এসে জানতে চান মরদেহ দাহ করা হয়েছে কি না। দিনটা আমার কাছে একেবারে ‘আই ওপেনার’ ছিল। সেদিন থেকেই অবাক হওয়া বন্ধ করেছি। বুঝেছি, এই পৃথিবীতে প্রত্যেকে আসলে নিজের জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত।”

বর্তমান সমাজব্যবস্থা নিয়েও স্পষ্ট মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এখনকার বেশিরভাগ ‘বিপ্লব’ সীমাবদ্ধ সোশ্যাল মিডিয়াতেই। “এখন সব বিপ্লব সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়, কারণ এতে ‘জিরো এফোর্ট’ লাগে। এই তৎপরতার মধ্যে অনেক সময় সত্যতা থাকে না। ভিউ যদি সত্যিই বাস্তবে প্রতিফলিত হতো, তাহলে প্রতিটি বাংলা সিনেমাই ২০ কোটি টাকার ব্যবসা করত,”— মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।

কাজের ক্ষেত্রেও আপসহীন স্বস্তিকা। নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাকে। তার মতে, নতুন ভাবনা ভালো হলেও কারিগরি দক্ষতা মজবুত না হলে কাজ এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে সেটে বকাবকি করতেও তিনি পিছপা হন না বলেই জানান।

নারী-পুরুষ ভেদাভেদ নিয়েও তার বক্তব্য স্পষ্ট। সম্প্রতি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলকে ঘিরে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যে টিমটা বিশ্বকাপ জিতে ফিরল, তাদেরও আমরা ‘মহিলা ক্রিকেট টিম’ বলেই সম্বোধন করেছি। কেউ ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম’ বলেনি। আমরা যেন খুব স্পেশাল, তাই সবকিছুর আগে ‘মহিলা’ ট্যাগ লাগিয়ে আলাদা করে দিই।”

সবশেষে ২০২৬ সালের জন্য নিজের একটি রেজোলিউশনের কথাও জানান স্বস্তিকা। “২০২৬-এ আমার রেজোলিউশন হলো ট্রোল ইগনোর করা। যদিও এ বছর ইতিমধ্যে দু’বার উত্তর দিয়ে ফেলেছি, তবু চেষ্টা করছি নিজেকে শান্ত রাখার।”

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সমাজের বৃহত্তর চিত্র— সবকিছু নিয়েই নির্ভীকভাবে কথা বলেছেন স্বস্তিকা। তার বক্তব্যে যেমন আছে হতাশার সুর, তেমনই আছে আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত এবং বদলের প্রত্যাশাও।