বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একই জায়গায় আটকে থাকতে চাই না : মধুমিতা

একই জায়গায় আটকে থাকতে চাই না : মধুমিতা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও এবার নিজেকেই যেন নতুন করে আবিষ্কার করতে চাইছেন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে চ্যালেঞ্জিং ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের প্রতি ঝুঁকছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘অটবি’ চলচ্চিত্রে একেবারেই ভিন্ন অবয়ব ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে পর্দায় হাজির হচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

‘অটবি’তে নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মধুমিতা বলেন, ‘এতদিন দর্শক আমাকে যেভাবে দেখে এসেছেন, এই ছবিতে একেবারেই তেমনটা পাবেন না। চরিত্রটির ভেতরে গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক দিক রয়েছে, যা প্রথম থেকেই আমাকে আকর্ষণ করেছিল। কোনো পরিচালক যে আমাকে এমন একটি জটিল চরিত্রে কল্পনা করতে পেরেছেন, এটাই আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। কারণ একজন শিল্পী হিসেবে আমি এক জায়গায় আটকে থাকতে চাই না।’

একসময় অভিনয়কে ঘিরেই দিনের বড় একটি সময় ব্যয় করতেন মধুমিতা। তবে সময়ের সঙ্গে তার জীবনযাপন ও অগ্রাধিকারে এসেছে পরিবর্তন। এখন কাজের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্যও সময় রাখাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

কাজের ব্যস্ততা কমিয়ে বেছে বেছে কাজ করার বিষয়ে মধুমিতা বলেন, অতিরিক্ত কাজের চাপে একটা সময় পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, ‘বাবা-মা সবসময়ই আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অগ্রাধিকার বদলায় এটা আমি উপলব্ধি করেছি। শুধু পেশাগত সাফল্যই জীবন নয়; যাদের আমরা ভালোবাসি, সেই প্রিয় মানুষ ও পরিবারের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, একটি সম্পর্কে দুজন মানুষের মতের অমিল থাকতেই পারে। তবে সেই ভিন্নতার মধ্যেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সঙ্গতি থাকা জরুরি।

‘অটবি’তে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা মধুমিতার জন্যও ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে চরিত্রটির শারীরিক অভিব্যক্তি ও মানসিক অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাকে কঠিন বলে মনে করেছেন তিনি। চরিত্রটির অস্বাভাবিক রূপ ফুটিয়ে তুলতে চোখের দৃষ্টি থেকে শুরু করে শরীরী ভাষায়ও আনতে হয়েছে ভিন্নতা। দৃশ্যের পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

প্রায় ১৭-১৮ বছরের অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন মধুমিতা। তবে প্রশংসার পাশাপাশি দর্শকের গঠনমূলক সমালোচনাকেও গুরুত্ব দেন তিনি। কারণ তার মতে, একজন শিল্পীর এগিয়ে যাওয়ার পথে ভুল ধরিয়ে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

দর্শকদের উদ্দেশে মধুমিতা বলেন, ‘আমি একটু আড়ালে গেলে যখন দর্শক প্রশ্ন তোলেন ‘মধুমিতা কোথায়?’, তখন মনে হয় এটাই আমার প্রাপ্তি। তবে শুধু প্রশংসাই নয়, আমার ভুলগুলোও দর্শক ধরিয়ে দিক। দর্শক আমার কাজ পছন্দ হলে যেমন ভালোবাসবেন, ভুল হলে সমালোচনাও করবেন তাদের এই যুক্ততাই আমার কাছে সবচেয়ে অর্থবহ।’

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়