সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩৬, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে পেট্রল পাম্পে বোমা হামলায় আহত ৪

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে পেট্রল পাম্পে বোমা হামলায় আহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের বিদ্রোহপ্রবণ দক্ষিণাঞ্চলে রোববার ভোরে একযোগে একাধিক পেট্রল পাম্পে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ব্যাংকক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, রোববার মধ্যরাতের পর মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে থাইল্যান্ডের তিনটি দক্ষিণতম প্রদেশ—নারাথিওয়াত, পাত্তানি ও ইয়ালায়—মোট ১১টি পেট্রল পাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণের ফলে বেশ কয়েকটি জ্বালানি পাম্পে আগুন ধরে যায় এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হামলাকারীদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা যায়নি।

নারাথিওয়াতের গভর্নর বুনচাই হোমইয়ামইয়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাগুলো প্রায় একই সময়ে ঘটেছে। অজ্ঞাত কিছু লোক এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, এতে একাধিক পেট্রল পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রদেশটিতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, পাত্তানি প্রদেশে একজন দমকল কর্মী এবং দুটি পেট্রল পাম্পের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। থাই সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, আহত চারজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ধারণা—রোববার অনুষ্ঠিত স্থানীয় প্রশাসক নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে এই হামলাগুলো একটি ‘সংকেত’ হিসেবে চালানো হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এগুলো সরাসরি ‘বিদ্রোহমূলক হামলা’ নয়।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর কমান্ডার নারাথিপ ফয়নক সাংবাদিকদের জানান, সড়ক চেকপোস্ট, সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের গভীর দক্ষিণাঞ্চলটি সাংস্কৃতিকভাবে দেশের বৌদ্ধ-অধ্যুষিত অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন। এক শতাব্দীরও বেশি আগে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় থাই সরকার।
২০০৪ সাল থেকে মুসলিম-অধ্যুষিত এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মালয়েশিয়া সীমান্তঘেঁষা এলাকাটিতে বিদ্রোহীরা অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে সাধারণত থাই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই বিদ্রোহী হামলার প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়