শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিআইইউ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাহমুদুল হত্যায় গ্যাং থার্টি সিক্সের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার দাবি

মাহমুদুল হত্যায় গ্যাং থার্টি সিক্সের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার দাবি
ছবি: গ্রাফিক্স

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে কিশোর গ্যাং সংগঠন 'গ্যাং থার্টি সিক্সের' প্রধান মাহিন অর রশিদ প্লাবনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ নাজমুজ ছাকিব। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। শুধু নাজমুজ ছাকিবই নয় রহস্যজনক ওই মৃত্যুতে এই কিশোর গ্যাং সংগঠন 'গ্যাং থার্টি সিক্সের' সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও৷ 

ফেসবুক পোস্টে এই শিবির নেতা বলেন, “ইইই এর মাহমুদ (মাহমুদুল হাসান) হত্যায় এই ছেলের হাত আছে কিনা তদন্তের দাবি রাখে। অবশ্যই, সাঁতার কুল এতো ইনসিকিউর হয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।” 

এ বিষয়ে সাইয়েদ নাজমুজ ছাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্প্রতি ডিআইইউর হলগুলো মাদকের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। এসব নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলে মাহিন অর রশিদ প্লাবন সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অত্যন্ত দুর্বলতার দিক প্রকাশ পায়। 

ছাত্র শিবিরের এই নেতা বলেন, মাহমুদুল যখন রহস্যজনকভাবে নিহত হন, তখন প্লাবন তার সঙ্গে এক নম্বর হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তিনি এখন যেহেতু সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে কথা আসছে, সেহেতু এই হত্যার সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকা নিয়ে প্রশ্ন আসে। 

ছাকিব আরও বলেন, “আমি তাকে সরাসরি অপরাধী বলছি না। তবে বিষয়টি এতই গুরুতর যে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতার ওই হত্যার সঙ্গে কোনো যোগসাজশ আছে কি না, প্রশাসনের তা খতিয়ে দেখা উচিত।” 

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে ২০২৫ তারিখে আনুমানিক রাত ১টার দিকে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৫ নম্বর পিলারে রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুল হাসানের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলের মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো তদন্ত ও বিচার চান না। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকারীরা তার বাবাকেও হুমকিতে রাখতে পারেন৷ 

মাহমুদুল হাসান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের (২য় শিফট) শিক্ষার্থী ছিলেন। 

অন্যদিকে, মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন ডিআইইউর ৬০তম ব্যাচের এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। এর আগে সে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটেয়ারীর আত্নীয় পরিচয় দিয়ে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছেন। এদিকে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরিতে প্লাবনসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে শোকজও করেছে। 

দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্লাবন কিছু বিপথগামী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘিদিন। ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এই গ্যাংয়ে তিন নং হল ছাড়াও বিভিন্ন হলের ৩৬ জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র৷ 

জানতে চাইলে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও প্রক্টর আমাদের নিরাপত্তা দিতে পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে৷ এর দায় তাকে নিতেই হবে৷ সে যদি বিচার করতে না পারে তাহলে তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে৷ কোন কাণ্ডজ্ঞানহীন, অদক্ষ কেও এই চেয়ারের উপযুক্ত নয়৷ 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই বিষয়ে আমরা তদন্ত করতে পারবো না। মৌখিক তদন্ত চাইলে তো আর হবে না। এটা তো মার্ডার কেস, থানায় মামলা করতে হবে বা জিডি করতে হবে। এর তদন্ত করবে পুলিশ, আমরা শুধু অবহিত থাকবো। 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়