রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় ইসরাইলি হামলা ‘বিপর্যয়কর ও অযৌক্তিক’: এড শিরান

গাজায় ইসরাইলি হামলা ‘বিপর্যয়কর ও অযৌক্তিক’: এড শিরান
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ, অন্যায় ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান। সফরসঙ্গী শিল্পী ম্যাকলমোরকে কনসার্ট সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর শনিবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বললেন তিনি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্ট শুরুর সময় গাজা প্রসঙ্গে এড শিরান বলেন, ‘গাজায় যা ঘটছে, তা ভয়াবহ, অন্যায্য এবং অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত।’

৩৫ বছর বয়সী এই শিল্পী এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তের জন্য তিনি সফরের আয়োজক ও প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেন।

ম্যাকলমোরকে ঘিরে বিতর্কের পর এটিই ছিল শিরানের প্রথম কনসার্ট। চলতি মাসে নিউ জার্সির একটি কনসার্টে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। এরপর ‘লুপ ট্যুর’-এর আওতায় যেসব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর মালিকেরা তার ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

পরবর্তী সময়ে শিরানের সফর থেকে চারজন সহযোগী শিল্পী সরে দাঁড়ান। প্রকাশ্য বিবৃতিতে তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানান।

শনিবারের কনসার্টে দর্শকদের উদ্দেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শিরান বলেন, ‘আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং নিতে হয়েছে ভুল সিদ্ধান্তও। এ জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।’

তার বক্তব্যের পর দর্শকেরা করতালি ও উল্লাসের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান।

ম্যাকলমোরকে প্রকাশ্যে সমর্থন না করায় শিরানের সমালোচনা শুরু করেন অনেকে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী রবার্ট ক্রাফটের নেতৃত্বে স্টেডিয়াম মালিকদের চাপের মুখে ম্যাকলমোরের পাশে দাঁড়াননি শিরান। এ ঘটনার জেরে শিরানের কনসার্ট বর্জনের আহ্বানও ওঠে।

শনিবার কনসার্ট শুরুর আগে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডের বাইরে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা। এ সময় তারা ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন।

প্রায় এক ডজন পুলিশ গাড়িতে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে ওই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।

অন্যদিকে, স্টেডিয়ামে আসা কয়েকজন দর্শক জানান, চলমান বিতর্কের কারণে তারা কনসার্টে যাবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা কনসার্টে এসে গান উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে ১৮ বছর বয়সী ব্রাউন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ব্র্যান্ডন আতেকে কনসার্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তার অভিযোগ, ম্যাকলমোরকে নীরব করার ঘটনায় ক্রাফটসহ অন্যদের সঙ্গে শিরানও ‘জড়িত’।

এএফপিকে তিনি বলেন, ‘গাজায় চলমান গণহত্যার বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে আমি কনসার্টে না গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এর আগে গাজা ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পী প্রকাশ্যে কথা বললেও শিরান রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

তবে মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ সংঘাত নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। আমি প্রকাশ্যে কথা না বললেই যে আমার কোনো মতামত নেই, তা নয়।’

একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনুষ্ঠানে যারা আসেন, তারা কোনো রাজনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে আসেন না।’

এদিকে শনিবার ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ফিলিস্তিন ক্যাম্পেইন ফর দ্য অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড কালচারাল বয়কট অব ইসরাইল (পিএসিবিআই) শিল্পী, দর্শক ও কনসার্টকর্মীদের এড শিরানের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি শিরানের পুরো বিশ্ব সফর বয়কটের ডাক দিয়েছে। এর আওতায় তার আসন্ন লাতিন আমেরিকা সফর এবং এখনো ঘোষণা না করা ইউরোপ সফরও রয়েছে।

শনিবারের কনসার্টে শিরান একাই মঞ্চে পারফর্ম করেন। তার সঙ্গে কোনো উদ্বোধনী শিল্পী বা সহশিল্পী ছিলেন না।

সফর থেকে সরে দাঁড়ানোদের মধ্যে শিরানের ব্যাকিং ব্যান্ডের সদস্যরাও রয়েছেন। এ ছাড়া গায়ক ও সংগীতশিল্পী ফিনিয়াসও সফর থেকে সরে গেছেন। পপ তারকা বিলি আইলিশের সঙ্গে কাজ করে পরিচিতি পেয়েছেন ফিনিয়াস, যিনি তার ভাই।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক বিনোদন অঙ্গনেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই মাসে হামাসের হামলার পর ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।

এরপর অস্কার ও এমিসহ বিভিন্ন সংগীত পুরস্কার অনুষ্ঠান এবং ইউরোপের চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতেও গাজা যুদ্ধের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসংঘ এর প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

এদিকে শনিবার গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর সর্বশেষ গোলাবর্ষণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুও রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়