ইমরান খানের ৩ বোন আটক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) নির্দেশে পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (এমপিও) অধ্যাদেশের আওতায় তাদের আটক করা হয়।
ইমরানের বোন আলিমা খানকে একই আইনে আটকের একদিন পর ডা. উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকে আটক করা হলো। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদ অভিমুখে মার্চের কর্মসূচির আগে তাদের আটকের ঘটনা ঘটল। ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্তি এবং সংবিধানের প্রাধান্যের দাবিতে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পিটিআই।
২০ সেপ্টেম্বরের তারিখ দেওয়া লাহোর ডিসি কার্যালয়ের এক আদেশে বলা হয়, উজমা ও নরিনকে ১৯৬০ সালের পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অধ্যাদেশের আওতায় ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে। আদেশে তাদের ‘জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্ষতিকর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এমপিও অধ্যাদেশের আওতায় কর্তৃপক্ষ কাউকে আটক করার পাশাপাশি এ ধরনের আদেশের বিচারিক পর্যালোচনাও সীমিত করতে পারে।
আদেশ অনুযায়ী, উজমা ও নরিনকে কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
আদেশে বলা হয়, তারা ৯ মে’র বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন এবং ‘শ্রমিকদের সরকারি ও জনসম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন’। আরও বলা হয়, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় আবারও কর্মীদের সংগঠিত করছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর স্লোগান’ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে উসকানি দিচ্ছেন।
আরও বলা হয়, এ ঘটনায় রেসকোর্স থানার ৯৬/২৩ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে। এতে উজমা ও নরিনকে ‘জনশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
লাহোর ডিসি মুহাম্মদ আলী ইজাজের সভাপতিত্বে রোববার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পুলিশের উপস্থাপিত ‘প্রমাণ’ সদস্যরা অনুমোদন করেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, লাহোর ডিসি মনে করেন, উজমা ও নরিনের কোনো জনসমাগমস্থলে উপস্থিতি ‘জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ তৈরি করতে পারে এবং জনশান্তি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সোমবার ভোরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ করেন, পাঞ্জাব পুলিশ ইমরানের দুই বোনকে তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদের সঙ্গে আটক করেছে। তাদের একটি সাঁজোয়া গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পিটিআইয়ের আইনজীবী আওয়াইস ইউনুস চৌধুরী ডনকে জানান, ইমরানের তিন বোনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, নরিন নিয়াজি ও উজমা খানকে প্রথমে তাদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সোমবার সকালে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পিটিআই এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনাকে ‘ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার, মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। দলটির দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’।
ইমরানের ছেলে কাসিম খানও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উজমা ও নরিনকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, কর্তৃপক্ষ তার খালা ও কাজিনদের বাড়িতে ঢুকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। গ্রেপ্তারের কারণ বা তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খানও আটকের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে আরও সংঘাত নয়, বরং রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান প্রয়োজন।
গওহর বলেন, পিটিআইয়ের সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করবে। তিনি রাষ্ট্রকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা শুধু ন্যায়বিচার চাইছেন এবং এর জন্য নিজেদের আওয়াজ তুলছেন।
পাঞ্জাবের সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য সীমাবিয়া তাহির ডনকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হচ্ছেন, বিষয়টি দুঃখজনক।’ এ ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: ডন



























