শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৫, ১১ জুন ২০২৬

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

আগামী অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ (বৃহস্পতিবার) এ তথ্য তুলে ধরেন।

বাজেটে পরিচালন বাজেটে ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৭ কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। আর উন্নয়ন বাজেট ৪২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক। নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম'-এর অধীনে  প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে।

তিনি জানান, দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এটি তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উপজেলা পর্যায়ে আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

আমির খসরু আরও বলেন, দেশের অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার 'ভিডব্লিউবি' (ভালনারেবল উইম্যান বেনিফিট’) কার্যক্রমের আওতায় ৪৯৩ টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬ টি ইউনিয়নে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসিক ৩০ কেজি হারে চাল ও পুষ্টিচাল দেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়া, মাতৃগর্ভ থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যথাযথ বিকাশ, সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং 'প্যারেন্টিং' কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে 'কুইক রেসপন্স টিম' গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। 

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার কর্মজীবী নারীদের নিরাপদে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের বিশাল কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করেছে। 

একইসঙ্গে বিদেশ ফেরত নারী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যা শ্রম অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিশুদের পরিবারে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

আইনের সংঘাতে জড়িত কন্যাশিশুদের সংশোধন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ৩৫০ জনকে আবাসন প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুদানে পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলোতে ৩ হাজার ৩০০ জন ছেলে ও ৩ হাজার ৩০০ জন মেয়েশিশুর আলাদা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যবস্থা রয়েছে। 

এছাড়াও বাক, শ্রবণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও অটিজম আক্রান্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়