শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:০৩, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাড়ছে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান

বাড়ছে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ফের শুরু হয়েছে যুদ্ধের উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পালটাপালটি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক অস্থিরতা। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একদিকে বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে লাফিয়ে বাড়ছে সরকারের লোকসানের বোঝা। চলতি অর্থবছরে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রভাবে তা ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

এদিকে ইন্দোনেশিয়া কয়লা উত্তোলন কমিয়ে দেওয়ায় কয়লার দাম ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রির ফলে গত আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে। একই কারণে বাড়তি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে গত ছয় মাসে পেট্রোবাংলা লোকসান দিয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু তেল ও গ্যাস খাতেই লোকসান হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব যুক্ত হলে এই লোকসান আরও বাড়বে।

অপরদিকে, বাড়তি দামে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল কিনতে গিয়ে অনেকটা দেউলিয়া হওয়ার দশায় পড়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিদ্যুৎ বিভাগের এই সংস্থা জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান ধরা হয়েছিল। কিন্তু এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হচ্ছে। তবে সরকারের প্রচেষ্টারও কোনো কমতি নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে সংকট নিরসনে সরকার সাধ্যমতো সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ সামনের দিকে বেগবান না হলে দু’সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হতে পারে।

এদিকে গত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও হুহু করে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৬ দশমিক ৬৩ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর সামনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহারের জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে দেড় কোটি টন কয়লা আমদানি করে। 

পিডিবি জানিয়েছে, গত বছর ইন্দোনেশিয়া কয়লা উত্তোলন ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়াসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে প্রতি টন কয়লার দাম ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত ঠেকেছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচও বাড়বে।

পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত জুনে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর ধারণা করা হয়েছিল, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লোকসান আগের চেয়ে কমবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লোকসান আরও বাড়তে পারে।

গ্যাস সংকটের কারণে সম্প্রতি সরকার ফার্নেস অয়েল দিয়ে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বৃহস্পতিবার  বলেন, বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে দেশের জনগণ ও সরকারকে সাশ্রয়ী হতে হবে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়লেও আগামী কয়েক মাস বেশি দামে তেল ও এলএনজি কিনে শিল্পকারখানা চালু রাখতে হবে। তবে শীতকালে কিছুটা লোডশেডিং দিয়ে সেই অর্থ সাশ্রয় করতে পারে সরকার। এ ব্যাপারে জনগণের সহায়তা প্রয়োজন।

সূত্র: যুগান্তর

জনপ্রিয়