শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়ম ভেঙে বাবা ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক, ছেলে হলেন অষ্টম

নিয়ম ভেঙে বাবা ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক, ছেলে হলেন অষ্টম
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুনিরুল হক। এ ছাড়া সি ইউনিটের কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে কো-অর্ডিনেটর এবং একই বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সন্তান কিংবা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হয়। একই সঙ্গে ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। 

ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

অধ্যাপক মুনিরুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় ৪৭ নম্বর পেয়ে তার মেধাক্রম হয় ৩ হাজার ২৫৫। পরে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন জুবায়ের। গত ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩১ পেয়ে মোট ৭৮ নম্বর অর্জন করেন তিনি। নিজ গ্রুপে তার অবস্থান হয় অষ্টম।

নথি অনুযায়ী, বিভাগের সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক মুনিরুল হক সি ইউনিটের কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে পদাধিকারবলে কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ১১ সদস্যের ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতেও ছিলেন তিনি। তিনটি গ্রুপের ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বও পালন করেন।

সি ইউনিটের চিফ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, “কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিষয়টি লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে জানাতে হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবনেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন না”।

অধ্যাপক মুনিরুল হক বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিনি আমাদের কাছে এমন কোনো আবেদন দেননি”।

তবে ছেলের ব্যবহারিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অধ্যাপক মুনিরুল হক। তিনি বলেন, “আমার ছেলের পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এটা জানালে ভালো হতো। তবে না জানালেও ক্ষতি নেই। সেখানে ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমি একজন পরিদর্শক মাত্র। আমার সেখানে নম্বর দেওয়ার বা আলাদা সুযোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই”।

নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, “নিয়ম একটু লঙ্ঘন হয়েছে। তবে খুব বেশি হয়নি। এতে সমস্যা হওয়ার কথা না”।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সন্তান পরীক্ষায় অংশ নিলে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে হয়। তা না করে সন্তানের পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ এবং এতে ভর্তি বিধি লঙ্ঘন হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়