মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ও আওতা বাড়িয়েছে সরকার”

“সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ও আওতা বাড়িয়েছে সরকার”
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ সব তথ্য উপস্থাপন করেন।

মন্ত্রী জানান, প্রকৃত দুস্থদের নির্বাচনে চরম স্বচ্ছতা আনতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে উপকারভোগীদের সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে করে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় আসার সুযোগ বন্ধ হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথাগত ম্যানুয়াল পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে এখন অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সরকারি অনুদান মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে দিতে ‘জিটুপি’ (জিটুপি-গভমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে সরকারি অনুদান সরাসরি সুফলভোগীর নিজ ব্যাংক হিসাব কিংবা পছন্দসই মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যবস্থার সুবাদে মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ দৌরাত্ম্য ও কমিশন বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।’

সংসদে মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট, ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগী—তিনটিরই পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

এ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে।

একইভাবে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে ৩০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতার হারও বৃদ্ধি পেয়ে মাসিক ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে; যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির হার ও পরিসর উভয়ই বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক স্তরে মাসিক ১ হাজার টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চতর বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ১ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপবৃত্তির সুফলভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির আওতায় এককালীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বাত্মক প্রয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষম সম্প্রসারণ এবং উপকারভোগী নির্বাচনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল সুবিধা সরাসরি প্রকৃত দুস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

জনপ্রিয়