ঢাকা জেলা প্রশাসন বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজন করবে
চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এতে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা হবে। চাকরির সুযোগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ও থাকবে এ আয়োজনে।
গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলার এনজিওগুলোর সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। জেলার বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এনজিও ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১১ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ, চাকরির সুযোগ চিহ্নিত করা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। আয়োজনের স্থান, সময় ও অন্যান্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বও থাকবে এ কমিটির ওপর।
সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, তরুণদের জন্য জব ফেয়ারকে শুধু চাকরির বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করার সুযোগও যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে মানুষের জন্য পরিচালিত কার্যক্রমের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি।
জেলা প্রশাসক বলেন, ঢাকা জেলার কোন এলাকায় কোন এনজিও কী ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, সে তথ্য জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত জানাতে হবে। এতে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা ও মানুষের উপকারের বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
মাঠপর্যায়ে এনজিওগুলোর সফল উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একটি এলাকায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ অন্য এলাকাতেও বাস্তবায়ন করা গেলে তার সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে বলে মত দেন জেলা প্রশাসক।
সভায় তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, এনজিও এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ডেঙ্গু ফ্রি জোন’ গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এনজিওগুলোর লক্ষ্য শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনার দিকে নজর দেওয়া উচিত। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে সমন্বিতভাবে কাজ করলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হবে।
সাধারণ মানুষের কল্যাণে এনজিওগুলোর কার্যকর উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন জেলা প্রশাসক।



























