শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দ্বীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দ্বীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর
ছবিঃ সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দ্বীপ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে পিবিআই। পরে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মধ্যরাতে পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। শুক্রবার দ্বীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআইয়ের তদন্ত দল। সেখানে তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ছিল না। সেটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই চলছে।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়াকারীদের দুজনের পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেন দ্বীপ। আর দ্বীপ নিজে বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে চলে যান।

তবে ধাওয়াকারীরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই। পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দ্বীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেখানে আদৌ পুলিশের কেউ ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা কেউ ছিলেন কি না কিংবা তাদের সেখানে কোনো দায়িত্ব ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, দ্বীপের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা কেন ওই মাঠে গিয়েছিলেন সেটিও অজানা। দ্বীপ একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি সেখানে যাননি বলেও দাবি করেন। পরে মোটরসাইকেলটির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে দ্বীপ জানান, তাহসিফ তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই এলাকা আগে থেকে তার পরিচিত ছিল না বলেও জানান দ্বীপ।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে নারাজ। দ্বীপের দাবি, ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তাহসিফের বাবা বলেন, ছেলে সাঁতার জানতেন এবং পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের কোর্সও করেছিলেন। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়