শিশুদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, শিশুদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা জরুরি।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকেই একদিন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসক ও যোগ্য সাংবাদিক তৈরি হবে। তাই শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে বর্তমান জায়গাটি দেওয়া হয়েছিল। ভবন নির্মাণে কোনো আইনি বাধা থাকলে তা দূর করতে সহযোগিতা করা হবে।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার ভবিষ্যৎ এখন নতুন প্রজন্মের হাতে। আগামী দিনে তারাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং মিথ্যা বলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
শিশুদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাত ও নখ পরিষ্কার রাখা, ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শারীরিক ব্যায়াম করা জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির ছাদ, ফুলের টবসহ আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো এবং দুধ, ডিম ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের বাবা-মায়েরা সমাজের সত্য ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। বাবা-মায়ের পেশাকে সম্মান জানিয়ে তাদের নিয়ে গর্ববোধ করতে হবে।
শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আব্দুস সালাম বলেন, তাদের মধ্য থেকেই একদিন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসক ও যোগ্য সাংবাদিক তৈরি হবে। এজন্য ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে মনোযোগী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সদস্যদের সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর এ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। আগামীতে শিশু-কিশোরদের এ আয়োজন তিন দিনব্যাপী করার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে ডিআরইউর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে জমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রধান অতিথির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দিনব্যাপী এ উৎসবে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি মো. আব্দুস সালাম।



























