মির্জা ফখরুলের ৭৮তম জন্মদিন আজ
আজ ২৬ জানুয়ারি। এই দিনে ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ তাঁর ৭৮তম জন্মদিন।
এক রাজনৈতিক পরিবারেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন স্বনামধন্য আইনজীবী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক, যিনি স্বাধীনতার আগে ও পরে ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাতা মির্জা ফাতেমা আমিনের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন পারিবারিক মূল্যবোধ ও দৃঢ়তা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন ছিল শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানো। ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ গভীর হয়। শুরুটা ছিল বাম ধারার রাজনীতি থেকে—মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর পদচারণা শুরু। পরে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকেই জীবনের প্রধান ব্রত হিসেবে বেছে নেন।
বিএনপিতে যোগদানের পর ধাপে ধাপে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকায় আবির্ভূত হন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পরে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সংগঠন গড়ে তোলার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে তিনি দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ঠাকুরগাঁও আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরও আগে, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদে যোগ দেননি—যা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল একজন পারিবারিক মানুষ। তাঁর বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অধ্যায় জুড়ে রয়েছে ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় তাঁকে বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তবুও তিনি কখনো আপস করেননি। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সাহসী ও দৃঢ় এক সম্মুখ যোদ্ধা।
দীর্ঘ এই পথচলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি বিএনপির কাছে সংগ্রাম, ধৈর্য ও নেতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতীক।



























