রোববার ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫১, ৮ নভেম্বর ২০২৬

রুহুল কবির রিজভী

কোথায় নামবেন—প্যারাশুটে, না হেলিকপ্টারে?

কোথায় নামবেন—প্যারাশুটে, না হেলিকপ্টারে?
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদের রক্ত মাটিতে শুকাতে না শুকাতেই শেখ হাসিনা হিন্দুস্তান থেকে দেশে ফেরার আওয়াজ দিচ্ছেন। তিনি দেশে আসতে পারেন, তবে তার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজনে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, “উনি নাকি চলে আসবেন ডিসেম্বরে। তাহলে আবু সাঈদদের শহীদ করলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করালেন—এই অপরাধ, এই পাপ, এই হত্যার কি বিচার হবে না? মাঝে মাঝে আওয়াজ দিচ্ছেন, হিন্দুস্তান থেকে নেমে পড়বেন? কোথায় নামবেন? প্যারাশুটে নামবেন, না হেলিকপ্টারে? ঢাকায় নামবেন, না গোপালগঞ্জে? একটু বলে দিন, কোথায় নামবেন?”

তিনি আরও বলেন, “শহীদের রক্ত মাটিতে শুকাতে না শুকাতেই একজন হত্যাকারী আওয়াজ দিচ্ছেন, তিনি আসবেন। আসতে পারেন, কিন্তু এই দেশের সরকার, এই দেশের আইন-আদালত—গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার ছিল, তা নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “তার আমলে অসংখ্য রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল। গ্রামে-গঞ্জে, খেতে-খামারে নতুন করে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তিনি মাইলের পর মাইল খাল খনন করেছিলেন। দেশ আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠেছিল, কলে-কারখানার চাকা আবার ঘুরেছিল। কৃষি উৎপাদনও কয়েক গুণ বেড়েছিল।”

রিজভী বলেন, “জিয়াউর রহমানের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এত ভালো হয়েছিল যে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাতে পারত। গ্রাম পুলিশ ও মহিলা পুলিশ তার সৃষ্টি। গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছিল। কিন্তু কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীরা বসে থাকেনি। তারা দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিককে হত্যা করেছে।”

এরশাদের শাসনামলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসেন এবং আবারও গণতন্ত্র হত্যা করা হয়। তারই সহধর্মিণী খালেদা জিয়া নয় বছর আন্দোলন করে ১৯৯০ সালে গণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।”

তিনি বলেন, “বিরোধী শক্তিকে দমন করে জনগণকে দাবিয়ে রাখা এবং দেশকে অন্য একটি দেশের আধিপত্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই আধিপত্যবাদের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেই বিপ্লব। সেই বিপ্লবই ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।”

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের পর আবারও জনগণকে জেগে উঠতে হয়েছে। ১৯৭২-৭৩ সালে যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা ভয়াবহ দুঃশাসন চালু করেছিলেন। রাষ্ট্রের চরিত্র হয়ে উঠেছিল গুম, খুন ও গুপ্তহত্যা। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। তরুণ ও শ্রমিকদের ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে।”

রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে আবারও ছাত্র, তরুণ, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ নিজেদের রক্ত দিয়ে তার পতন ঘটিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পেছনের প্রেরণা ছিল ৭ নভেম্বর। ৭ নভেম্বর মানুষ যেভাবে জেগে উঠেছিল, একইভাবে ১৯৯০ সালে এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়েও মানুষ জেগে উঠেছিল।”

তিনি বলেন, “এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রত্যেকেই ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে এখনো জেগে আছেন, অতন্দ্র প্রহরীর মতো সতর্ক আছেন। এ দেশকে কারও সেবাদাস হতে দেওয়া যাবে না।”

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “তিনি জনগণের কাছে স্বাধীনতার চেতনা বিক্রি করতেন, অথচ দিল্লির কাছে গিয়ে নিজেই কৃতদাস হয়ে যেতেন। জনগণের সামনে স্বাধীনতার চেতনার কথা বললেও দিল্লির কাছে গিয়ে চুপ থাকতেন।”

ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা না থাকলে নড়াইল থাকবে না। এখন কি বাংলাদেশে নড়াইল নেই?”

রিজভী বলেন, “চামচা, তাবেদার, উমেদার ও মুসাহেবদের দিয়ে শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। একের পর এক বিনা ভোটের নির্বাচনে সফল হওয়ায় তিনি মনে করেছিলেন, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। কিন্তু তিনি জনগণের শক্তি পরিমাপ করতে পারেননি। জনগণের শক্তি যেকোনো মুহূর্তে জেগে উঠতে পারে, এটি তিনি ভাবেননি। এই ভুলের কারণেই তার নির্লজ্জ পতন হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।”

বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “বিএনপির রাজনীতি সহজ-সরল পথের রাজনীতি, সিরাতুল মুস্তাকিমের রাজনীতি। খালেদা জিয়া যে অঙ্গীকার করেছেন, তা কখনো বরখেলাপ করেননি। তারেক রহমানও অঙ্গীকার করে তা বরখেলাপ করেননি।”

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি করেন, কিন্তু পদে পদে, কথায় কথায় ওয়াদার বরখেলাপ করেন।”

জনপ্রিয়