শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪০, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘ভয় আমার অভিধানে নেই, আমি বাংলাদেশ’,প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রুমি

‘ভয় আমার অভিধানে নেই, আমি বাংলাদেশ’,প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রুমি
ছবিঃ সংগৃহীত

‘ভয় আমার অভিধানে নেই! আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না। মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ।’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা তুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ তুলেছেন বডিবিল্ডার শাহজালাল রুমি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরে এ কথা লেখেন তিনি। এর আগে প্রকাশিত প্রায় ছয় মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন রুমি।

ভিডিও বার্তায় শাহজালাল রুমি দাবি করেন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাঁকে মামলা তুলে নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমি বলেন, ‘সকাল থেকে এই পর্যন্ত কন্টিনিউয়াসলি আমাকে লাইফ থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে। আমি যেন মামলা উঠিয়ে নেই, আমি যেন লাইভে এসে মাফ চাই। শুনে রাখো—এটা হবে না। আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো। নট অনলি আমি, আমরা—আমরা বাংলাদেশ, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো।’

শিক্ষককে চড় মারার বিষয়ে রুমির বক্তব্য

শিক্ষককে চড় মারার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমি দাবি করেন, তিনি কোনো আলেম বা শিক্ষককে অপমান করেননি; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণের প্রতিবাদেই তাঁকে চড় মেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়ে আমি আলেমকে অপমান করি নাই, থাপ্পড় দিয়ে আমি কোনো শিক্ষককে অপমান করি নাই। আমি একজন দুশ্চরিত্র লম্পটকে থাপ্পড় দিয়েছি। সমাজের মানুষ এদের থাপ্পড় দিয়ে সোজা করে ফেলবে।’

রুমি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণের কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার পর শিশুটির নানার বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপরও কিছু মানুষ কেন অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন রুমি। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির আড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষার চেষ্টা চলছে।

আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানালেন রুমি

নিজেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে রুমি বলেন, প্রকৃত ও ভালো আলেমদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো আলেম সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে গালিগালাজকারীদের উদ্দেশে রুমি বলেন, কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্যকে গালি দেওয়া ধর্মীয় শিক্ষার অংশ হতে পারে না।

আইনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাশীল। যা কিছু হবে, এখন আইনের মাধ্যমেই হবে। সে (অভিযুক্ত শিক্ষক) যেন কোনোভাবেই জামিন না পায়, সেজন্য আমরা সবাই কাজ করছি।’

ভিডিওর শেষ দিকে দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রুমি বলেন, ‘আমাকে হারায়ে যাইতে দিয়েন না।’

যে ঘটনায় আলোচনায় রুমি

গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।

শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজালাল রুমি তাঁকে চড় মারেন বলে জানা গেছে। পরে উপস্থিত জনতা ওই শিক্ষককে মারধর করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়