শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ১৩.৯২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ১৩.৯২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ১৩ দশমিক ৯২ কেজি ওজনের ১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস হাউস, ঢাকা। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সহকারী টেকনিক্যাল হেলপারকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস হাউস, ঢাকা সূত্রে জানা যায়, দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৮-এ স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য পায় কাস্টমস। খবর পাওয়ার পরপরই বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিম বিমানের ভেতরে রামেজিং ও বিশেষ তল্লাশির জন্য উপস্থিত হন।

বিমানটির মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দলের সদস্যরা বিমান পরিষ্কার করে নিচে নামার সময় তাদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় বিমানের নিরাপত্তাকর্মী নুর ইসলামের সহযোগিতায় তল্লাশি চালানোর প্রাক্কালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীর পরিহিত বেল্টের মধ্যে কালো স্কচটেপে মোড়ানো সন্দেহজনক কিছু বস্তু দেখতে পাওয়া যায়।

পরে ওই বস্তুগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করা হয়। ইনভেন্টরির পর কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ১২০টি গোল্ড বার পাওয়া যায়। উদ্ধার করা স্বর্ণের প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৯২ কেজি। কাস্টমসের হিসাবে এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা।

অভিযানের সময় এভসেক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাস্টমসের প্রাথমিক ধারণা, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা ফ্লাইটে স্বর্ণের বারগুলো অত্যন্ত কৌশলে কালো স্কচটেপে মুড়িয়ে বেল্টের মধ্যে লুকিয়ে আনা হয়েছিল। সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণ চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে স্বর্ণগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।

কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় স্বর্ণ চোরাচালানের এ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয়