শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সংকট সমাধান করুন, ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না’

‘সংকট সমাধান করুন, ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না’
ছবি: সংগৃহীত

নাগরিক আন্দোলনের নেতা মিজানুর রহমান বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান করতে হবে। মানুষ আর কোনো অজুহাত শুনতে চায় না। সরকারের কাছে ছয় মাস সময় চাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছয় মাস পার হয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি; এখন নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর জুরাইনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছয় মাস পার হয়ে গেছে, কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না। এখন নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না।’

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় দেখাবেন না, দেখানোর চেষ্টাও করবেন না। মানুষ তিন বছর আগে ভয়কে জয় করেছে।’

তিনি বলেন, জুরাইনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। নাগরিক সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলে কর্মকর্তারা তাদের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় এসে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর আর এলাকাবাসীর খোঁজ নেন না।

সমাবেশটিকে ‘উঠান বৈঠক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কার্যক্রম এক মাস দেখব। আমাদের সমস্যার সমাধান না হলে পরের পরিস্থিতির জন্য জনগণকে দায়ী করতে পারবেন না।’

সমস্যার সমাধান না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়ক ও রেলপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি কীভাবে আদায় করতে হয়, আমরা দেখিয়ে দেব। আমাদের তেমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবেন না।’

সরকারের বিমান কেনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুনছি আপনারা বোয়িং কিনছেন। দফায় দফায় চুক্তি করছেন। আমি বলব, আগে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করুন, বোয়িং পরে কিনুন।’

বিদেশিদের খুশি করতে বেশি দামে কেনাকাটার মাধ্যমে ইচ্ছা করে সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার দাবি, আগেও দেশে বিভিন্ন সংকট ছিল, তবে পরিস্থিতি এতটা মারাত্মক হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়ে কেন পরিস্থিতি এত খারাপ হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে।

দাবি আদায়ে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন নাগরিক আন্দোলনের এই নেতা।

‘শ্যামপুর-কদমতলীর বিক্ষুব্ধ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মাহদী। এতে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ রায়, আলতাব হোসেন, সাগর, মামুন, বাসের আলীসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, মানুষ তারেক রহমানের ওপর অনেক আস্থা রেখেছিল। কিন্তু গ্যাস, বিদ্যুৎসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে—এমন লক্ষণ তারা দেখতে পাচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ আন্দোলন করতে জানে। অতীতে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বক্তারা সতর্ক করেন, এবারও মানুষ ক্ষুব্ধ হলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই জনগণকে দায়ী না করে আগেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সমাবেশ শেষে এলাকাবাসী একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি জুরাইনের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়