বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫৩, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর ‌’গায়েবানা জানাজা’

চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর ‌’গায়েবানা জানাজা’
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা স্থগিত না করার প্রতিবাদে এবং অবশিষ্ট পরীক্ষা পেছানোসহ ৭ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক (গেট) খুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই গায়েবানা জানাজা সম্পন্ন করেন।

এর আগে, সকাল ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘এইচএসসি ২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরের দিকে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকটি সম্পূর্ণ খুলে ফেলেন এবং সেটি মাথায় করে নিয়ে যান। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বোর্ডের ফটক খুলে ফেলার এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে সড়ক ছেড়ে দিলেও তারা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে ৭ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন, যা তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা।

প্রশ্নপত্রের মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের উত্তরপত্র ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন করা। প্রশ্ন প্রণয়নে দায়িত্ব অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র পুনঃইস্যুর ব্যবস্থা করা। অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন রুটিন প্রণয়ন করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম শাকিল জানান, আমরা শিক্ষাবোর্ডে ৭ দফা দাবি জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বিকেল ৩টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাই আমরা আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা পড়েছি এবং দাবি না মানলে রাতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও দুর্যোগের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই আন্দোলনের সামগ্রিক বিষয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়