বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:০৭, ১৫ জুলাই ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগ

ইইডি’র বরিশাল জোনে বহাল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের শহিদুল 

ইইডি’র বরিশাল জোনে বহাল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের শহিদুল 
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাবেক নেতা শহিদুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নাম সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। এতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে শহিদুল ইসলাম। 

একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বরিশাল জেলার বিভিন্ন শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধ ও জামানতের চেক ছাড়ের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদীতে কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের মধ্যে অন্তত দুটি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরে ওই কাজ কমিশনের বিনিময়ে অন্য ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন কয়েকজন ঠিকাদার। 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন তৈরি করে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজ বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ ঠিকাদাররা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৩ অক্টোবর বরিশাল সার্কিট হাউসে একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, কমিশনের অর্থ হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা একজন কম্পিউটার অপারেটরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল এবং পরে ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে চলে যান। তবে এ ঘটনার বিষয়ে কোনো সরকারি নথি, পুলিশি মামলা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য এই প্রতিবেদনের হাতে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার গোষ্ঠী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। কাজ পাওয়ার পর তারা নিজেরা বাস্তবায়ন না করে উচ্চমূল্যে অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়, ফলে সরকারের ব্যয় বাড়ে এবং প্রকল্পের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, কমিশন ও ঘুষের সংস্কৃতির কারণে সৎ ও সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এদিকে সুশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়