সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ১৩ জুলাই ২০২৬

মন্ত্রণালয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে দুদক মামলার আসামিকে পিডি নিয়োগের অভিযোগ

মন্ত্রণালয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে দুদক মামলার আসামিকে পিডি নিয়োগের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা উপেক্ষা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দুর্নীতি মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির ঢাকা জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়াকে ‘গাজীপুর জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ দেওয়া হয়েছে। অথচ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক বাছাই কমিটি দুদকের মামলা চলমান থাকায় তাঁর নাম স্পষ্টভাবে নাকচ করেছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশের মাধ্যমে বাচ্চু মিয়াকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী সাবের আলী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামস জাভেদ।

মামলা দায়েরের পর বাচ্চু মিয়াকে তাঁর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে এলজিইডি সদর দপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওএসডি থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতে দীর্ঘদিন ধরে তদবির চালিয়ে আসছিলেন বাচ্চু মিয়া। প্রায় তিন মাস আগে তাঁকে গাজীপুর জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নিয়মিত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠান প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন।

তবে দুদকের মামলা চলমান থাকায় মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক বাছাই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নাম প্রত্যাখ্যান করে। এরপরও প্রধান প্রকৌশলী পুনরায় তাঁর নাম সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে একটি মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকার বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানান, বাচ্চু মিয়ার নাম বারবার সুপারিশ করায় কমিটির সদস্যরা গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দুদকের মামলার আসামি কোনো কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার কোনো প্রকল্পের প্রধান করা যাবে না। ওই বৈঠকে প্রধান প্রকৌশলী এর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

নিয়মিত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ার পর প্রধান প্রকৌশলী প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বাচ্চু মিয়াকে ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ দেওয়ার পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশের মাধ্যমে তাঁকে প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধানের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকায় সেই সুযোগই কাজে লাগানো হয়েছে।

দুদকের একই মামলার আরেক আসামি নির্বাহী প্রকৌশলী সাবের আলীকেও এর আগে ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর পদায়নের আদেশ বাতিল করে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, একই মামলার প্রধান আসামিকে এবার একটি বহু কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়