কোটি টাকা খরচ, তবু বেহাল নোয়াখালীর হাসপাতাল রোড
সংস্কারের নামে বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও নোয়াখালী পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ‘হাসপাতাল রোড’ যেন পরিণত হয়েছে হরিলুটের খাতায়। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা সংস্কারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহও না পেরোতেই সড়কের পিচ উঠে গিয়ে আবারও বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার সামনে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার দীর্ঘ হাসপাতাল রোডের দুই পাশে শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী এই সড়ক ব্যবহার করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩১ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করে। তবে নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়।
এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই প্রতিষ্ঠানকে ২১ লাখ ২৯ হাজার ৪২১ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সংস্কারও টেকেনি। একই অর্থবছরে আবার মেসার্স রহিম অ্যান্ড সন্স-কে ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে নতুন করে কার্পেটিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয়ে শারমিন ডেইরি অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ সড়কটির আরও এক দফা সংস্কার করে। কিন্তু তাতেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সবশেষ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এক কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের এই সড়কের সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। তিনটি পৃথক প্যাকেজে কাজ পায় মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন এবং মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্স।
এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যয়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক এবং ২০৪ মিটার সিলকোট নির্মাণের দায়িত্ব পায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি রাতের আঁধারে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করে কাজ শেষ করে। ফলে গত ৩ জুলাই পিচ ঢালাইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো অংশের পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা রুবেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি সড়ক প্রতি বছর সংস্কার করার নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মুমূর্ষু রোগী যাতায়াত করে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।’
চিকিৎসার জন্য হাতিয়া থেকে আসা আব্দুল হাই বলেন, “বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কে সংস্কার কাজ চলতে দেখি। কিন্তু কখনোই রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী অবস্থায় পাই না।”
জানতে চাইলে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হানিফ নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, ‘কাজটি টেন্ডারে আমি পেলেও অন্য এক পার্টিকে দিয়ে করাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আমরা সেগুলো আবার ঠিক করে দেব।’
নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খাঁন বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে লিখিত চিঠি দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি আবার করে দেবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’
সূত্র: এখন টিভি



























