বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

মোঃ আশিকুল ইসলাম, ববি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ববিয়ানদের প্রত্যাশা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ববিয়ানদের প্রত্যাশা
ছবি: সংগৃহীত

‎দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের প্রতিটি জায়গায় এখন আলোচনা চলছে উক্ত নির্বাচন নিয়ে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অধীনে বিগত কয়েকটি ডামি নির্বাচনের পর এটাই হতে যাচ্ছে নির্দলীয় সরকারের অধিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এই নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে দেশের প্রতিটি সেক্টরে।চব্বিশ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কি ধরনের নির্বাচন চান দেশের জনগন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা। এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন দক্ষিণ বঙ্গের উচ্চ শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা(ববিয়ান)।তারা ব্যাক্ত করেছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যাশা।

‎এ বিষয়ে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করতে গিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহম্মদ শাহিন বলেন, আসন্ন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  একটি আদর্শ নির্বাচন হিসেবে দেখতে চাই। যেখানে সর্বোৎকৃষ্ট স্বচ্ছতা  নিশ্চিতকরণ, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রার্থী  ও ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একইসাথে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কেন্দ্র দখল , ভোটারদের মাঝে ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।এর মধ্যে দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ জনগণের সরকার কায়েম করতে হবে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়টির ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী  মোঃবিপ্লব বলেন,আসন্ন নির্বাচনে প্রধানতম প্রত্যাশা— প্রশাসন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পূর্ণ সক্ষম হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরব এবং পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের টেরিটরি নিরাপত্তার বলয়ে আবৃত আছে এটা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটকেন্দ্র সার্বিক পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে আসতে পারছে কিনা এটা নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিকভাবে এটাই প্রত্যাশা যে একটি সুষ্ঠু, নিরেপক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইন্টেরিম সরকার তার দায়িত্বের সর্বশেষ প্রধানতম দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করবেন।

‎একই বিভাগের অন্য আর এক শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন,আমি এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। ফলাফল যেন হয় বিশ্বাসযোগ্য, যাতে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব। যারা জনগণের কথা শুনবেন, জনগণের সমস্যা বুঝবেন এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করবেন। দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও দূরদর্শী প্রতিনিধিই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ তৈরি করতে পারে—এই প্রত্যাশাই করি।

‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদ জিসান বলেন,বিগত টানা তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটের মূল্যায়ন হয়নি। মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি কে ভোট দিতে পারেনি। এছাড়াও ২০০৮ এর নির্বাচনে ডিপস্টেটের কারসাজি সম্পর্কে আমরা অবগত।জেন 'জি'রা এখন পর্যন্ত তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। একটা জঘন্য নোংরা কালচারে আমরা বেড়ে উঠেছি যেখানে আমরা দেখেছি,ভোট দিতে গিয়ে ভোটার দেখছে, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি,মৃত মানুষ এসে ভোট দেওয়ার মতো ঘটনা।দেখেছি, প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্টদের মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা।তার চেয়েও দূঃখের বিষয় ভোটকাটাসহ সকল অনিয়ম ই হয়েছে প্রশাসনের মদদে। যেখানে সেনাবাহিনীও ছিল নিরব।সুতরাং,এটা বলা বাকি রাখে না, আমি বা আমরা কেমন নির্বাচন চাই‌।আমি, সেই সো‌ কল্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবর্তে একটা প্রকৃত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, যেখানে আমার ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী গালিব তার প্রত্যাশা ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন,বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার মত সাধারণ শিক্ষার্থীদের  ভাবনায় সবচেয়ে বেশি জায়গা নেয় আশা আর উদ্বেগের মিশ্র অনুভূতি।আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন, যেখানে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবো।দল নয় বরং একজন মানুষকে বিবেচনা করে ভোট দিবো এবং সেই ভোটের সত্যিকারের মূল্য থাকবে। আরও চাইবো নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার সহিংসতা যেন না হয়,সারাদেশেই যেন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে। রাজনৈতিক সহিংসতা, হরতাল বা অস্থিরতা নিয়ে আমরা প্রায়ই শঙ্কিত, কারণ এসবের প্রভাব সরাসরি পড়ে ওই ব্যাক্তির  জীবনে, পরিবারে ও জীবিকায়। পরিশেষে যেই দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, নির্বাচনের পর যেন বাংলাদেশের সকল মানুষের কষ্ট লাঘব হয়,তাদের চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়। তাই একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সম্মানজনক নির্বাচন কাম্য।

‎ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফখরুদ্দীন তারেক বলেন,স্বৈরশাসনমুক্ত নতুন বাংলাদেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি— এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। দীর্ঘদিন ধরে দেশে আইনের শাসন দুর্বল ছিল, দুর্নীতি বেড়েছে এবং গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রভাবের কারণে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম হারিয়েছে।এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করি, যেখানে জনগণের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে।

‎‎রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাঃ নাকিবা আনোয়ারী রিয়া বলেন,নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রাণ। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য, যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। আমরা শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জনগণের নিরাপত্তা চাই। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়াই হোক আগামী নির্বাচনের মূল লক্ষ্য

‎ফিলোসফি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার প্রত্যাশা হলো এটি যেন স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়। সকল নাগরিক যেন ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের বাস্তব মতামতের প্রতিফলন ঘটুক এবং নির্বাচিত সরকার  ইনসাফ ও জনকল্যাণে দায়বদ্ধভাবে কাজ করুক।

‎অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিম আলমাস বলেন, আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমি চাই আমার ভোটটি যেন সত্যিই গণনা হয় এবং আমার সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের দিক নির্ধারণ করে। যখন জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, তখনই বাকি সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যাবে।আমি এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে কথা বলতে বা সমালোচনা করতে কোনো ভয় থাকবে না।বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসন কোনো দলের নয়, বরং আইনের অনুসারী হবে।ক্ষমতা কোনো একক গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত থাকবে না এবং ক্ষমতাকে সবসময় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।তাই এসবের জন্য প্রয়োজন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন।