সোমবার ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

রাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২১ জুন ২০২৬

বাবা দিবস নিয়ে রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

বাবা দিবস নিয়ে রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

বাবা শব্দটা খুব সহজেই বলা যায়, কিন্তু এর মর্ম বুঝতে গেলে খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের প্রকৃত বাস্তবতা। হাজার অসাধ্যকে সাধন করেও যিনি হাসিমুখে সবসময় তৃপ্তি প্রকাশ করেন, সেই বাবাকে নিয়ে লিখেছেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের সেই অনুভূতির কথাগুলো তুলে ধরছেন রাবিপ্রবি প্রতিনিধি মো. ইসমাইল।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোহাম্মদ কবির বলেন,“বাবা মানে নিঃশব্দে আগলে রাখা এক আকাশ। তিনি হয়তো ভালোবাসার কথা কম বলেন, কিন্তু তাঁর প্রতিটি পরিশ্রম, ত্যাগ আর দায়িত্বের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সন্তানের প্রতি গভীর মমতা। জীবনের পথে আমরা যতই এগিয়ে যাই, ততই বুঝতে শিখি—বাবার শাসন ছিল ভালোবাসা, তাঁর কঠোরতা ছিল ভবিষ্যতের চিন্তা, আর তাঁর নীরবতা ছিল অগাধ স্নেহের প্রকাশ। বাবা সেই মানুষ, যিনি নিজের স্বপ্নকে আড়াল করে সন্তানের স্বপ্নকে বড় করে তোলেন। তাই বাবার প্রতি ভালোবাসা শুধু অনুভূতির নয়, গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতারও নাম।”

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মো. কাইমুন সবুজ বলেন, “বাবা শুধু একটি শব্দ নয়; বরং ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক। একজন বাবা তাঁর সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নীরবে অনেক কষ্ট সহ্য করেন।বাবা দিবস আমাদের সেই মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন, যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে নিরলস কাজ করে যান। তবে আমার মতে, বাবাকে ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর জন্য শুধু একটি দিন যথেষ্ট নয়। বছরের প্রতিটি দিনই হওয়া উচিত বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। আমি বিশ্বাস করি, একজন বাবার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো তাঁর সন্তানের সফলতা, সততা এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। তাই বাবা দিবসে আমি সকল বাবার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবন কামনা করি।”

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের ছিদ্দিকুর রহমান রাকিব বলেন,“বাবা হচ্ছেন বটবৃক্ষের মতো। তুলনা ঠিক যায় না, তারপরও বলা যায়—বটবৃক্ষ যেমন রোদ-ঝড় গায়ে মেখে তার নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষকে পরম যত্নে আগলে রাখে, ঠিক তেমনি বাবা তাঁর রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে নিজের সন্তানদের পরম মমতায় আগলে রাখেন। শত আঘাত, ক্ষতবিক্ষত দেহ-মন নিয়েও তিনি সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টায় নিরন্তর পথ চলেন। এই পথ চলতে চলতে একদিন জীবনের শেষ লগ্নে পৌঁছে যান। বাবা, তোমার চিরমঙ্গল কামনা করি।”

ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, “বাবার ত্যাগের কোনো পরিমাপ নেই। আমার বাবা একজন হাফেজ এবং প্রাক্তন ইমাম। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজে কাজ করেছেন। করোনা মহামারির সময় যখন আমি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলাম, তখন তিনি নিজের ক্যারিয়ার ও সামাজিক সম্মানের তোয়াক্কা না করে আমাকে বাঁচাতে সবকিছু উৎসর্গ করেন।

টানা দুই বছরের আর্থিক সংকটে পরিবারকে বাঁচাতে তিনি একপর্যায়ে রিকশা চালানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। যদিও সেই সংকটময় সময়ে আমাদের আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তবুও বাবার সেই অদম্য মানসিকতা ও আত্মত্যাগ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

আজ আমি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে বাবার সেই ত্যাগের ঋণ। আমি গর্বিত, এমন একজন মহান বাবার সন্তান হতে পেরে।”

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেখ সাইদ আনোয়ার বলেন, “পৃথিবীর সব ঋণ শোধ করা সম্ভব, তবে বাবার ঋণ শোধ করা নিতান্তই দুঃসাধ্য।জীবনে হয়তো অনেক বড় পর্যায়ে যাওয়া হবে, কিন্তু সেই পথে যেতে যে মানুষটা ত্যাগ, ঘাম আর রক্ত দিয়েছেন, তিনি আমার বাবা। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে এমন একজন পুরুষ আছেন, যিনি সব সময় চান তাঁর সন্তান যেন তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়ে ওঠে। বাবা দিবসে ভালো থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি বাবা।”

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার মীম বলেন, “একটি পরিবারের বটবৃক্ষ, মাথার ওপর আশ্রয়ের ছাদ, বাহুর শক্তি আর দৃঢ় কণ্ঠস্বরের প্রতীক হয়ে ওঠেন একজন বাবা।বাবা সাধারণের মাঝে অসাধারণ দায়িত্ববোধের এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর দায়িত্বের প্রতি দৃঢ়তা, সন্তানের জন্য নিঃশব্দ মায়া-ভালোবাসা এবং পরিবারের জন্য নিজের শখ-আহ্লাদের বলিদান।কোনো শব্দ, কবিতা কিংবা উপন্যাস দিয়ে বাবার এই ভালোবাসাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। কোনো দিবসই বাবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম হতে পারে না।বাবারা ভালোবাসায় দিবস-রজনীর সন্ধান করেন না। তাঁদের ভালোবাসা অবিরাম, অনন্ত, দিবস-রজনীহীন।তাই বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা ও যথাযথ মর্যাদা দেওয়াকে শুধু একটি দিবসে আবদ্ধ না রেখে অঙ্গীকার করি।বাবার প্রাপ্য সুখ, শখ, মায়া ও ভালোবাসা আমরা যেন যথাসময়ে প্রকাশ করতে পারি।বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে আমার এটুকুই ভাবনা, এটুকুই চাওয়া।স্যালুট পৃথিবীর সকল বাবা নামক সুপারহিরোকে।”

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়