নায়করাজ রাজ্জাকের ৮৪তম জন্মদিন আজ
বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে যিনি ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র, সেই নায়করাজ রাজ্জাকের আজ ৮৪তম জন্মদিন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দিনে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। প্রয়াত এই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিন আজ নীরবে, পারিবারিক আবহেই স্মরণ করা হচ্ছে।
১৯৪২ সালের এই দিনে কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন রাজ্জাক। সাদাকালো পর্দা থেকে রঙিন চলচ্চিত্র—দুই যুগেই তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয় ও শক্তিমান অভিনেতা। তার অভিনয়ের গভীরতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি ও পর্দায় উপস্থিতি তাকে এনে দেয় দর্শকের সীমাহীন ভালোবাসা এবং ‘নায়করাজ’ উপাধি।
জন্মদিন উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দিনটি যথাযথ সম্মানের সঙ্গেই পালন করা হচ্ছে। তার ছোট ছেলে অভিনেতা সম্রাট জানান, “আব্বা জীবিত থাকলে জন্মদিন মানেই ছিল উৎসবের আমেজ। এখন তিনি নেই, তবে তাকে মনে রাখার দায়িত্ব আমাদের। তাই পরিবার হিসেবেই দিনটি কাটাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বাবার রূহের মাগফিরাত কামনায় একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
নায়করাজ রাজ্জাকের অভিনয় জীবনের বীজ রোপিত হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজার এক নাট্য মঞ্চে ‘বিদ্রোহী’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাছাই করা সেই চরিত্রই ছিল তার শিল্পী হয়ে ওঠার প্রথম সিঁড়ি।
১৯৬৪ সালে তিনি পরিবারসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে আসেন। এখানে এসে নির্মাতা আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ‘তের নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে তার যাত্রা শুরু হয়।
এরপর ‘কার বউ’, ‘ডাক বাবু’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। নায়ক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’। পরবর্তী সময়ে তিন শতাধিক বাংলা ও কয়েকটি উর্দু চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলা সিনেমার অবিসংবাদিত নায়ক হিসেবে। পাশাপাশি ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে নির্মাতার আসনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ লাভ করে তার কর্মজীবনের স্বীকৃতি আরও দৃঢ় হয়। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও, নায়করাজ রাজ্জাক আজও বেঁচে আছেন তার সৃষ্টি, তার অভিনয় আর দর্শকের ভালোবাসায়।



























