সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩১, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকার মঞ্চে এক্টোম্যানিয়ার ৩য় প্রযোজনা: ইবসেনের ‘হোয়েন উই ডেড এওয়েকেন’

ঢাকার মঞ্চে এক্টোম্যানিয়ার ৩য় প্রযোজনা: ইবসেনের ‘হোয়েন উই ডেড এওয়েকেন’
ছবি: সংবাদ পরিক্রমা

ঢাকার মঞ্চে তৃতীয় প্রযোজনা নিয়ে আসছে তরুণ নাট্যদল এক্টোম্যানিয়া। এবারের প্রযোজনা বিশ্বনাট্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নরওয়েজিয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেন–এর কালজয়ী নাটক ‘হোয়েন উই ডেড এওয়েকেন’।

নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় মঞ্চায়ন ২৮ জানুয়ারি। উভয় প্রদর্শনীই হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে। উদ্বোধনী মঞ্চায়নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়েজিয়ান রাষ্ট্রদূত হ্যাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন।

নাটকটির ভাষান্তর করেছেন শহীদুল মামুন এবং নির্দেশনায় রয়েছেন নওরীন সাজ্জাদ। নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক নওরীন সাজ্জাদ বাংলাভিশনকে বলেন, ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা এক্টোম্যানিয়া শুরু থেকেই দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী ও চিন্তাশীল নাটক উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে দলের প্রযোজনা ‘হ্যামলেটমেশিন’ ও ‘দ্য ম্যান আউটসাইড’ দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন প্রযোজনাটিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, ‘হোয়েন উই ডেড এওয়েকেন’ মূলত মুক্তি ও সম্পর্কের গল্প। এই নাটকের চরিত্ররা কেউ সৃষ্টিশীলতার ভেতর দিয়ে মুক্তি খোঁজে, কেউ বা মানবসম্পর্কের উষ্ণতায়। 

আন্তঃসম্পর্ক ও মুক্তির চিরায়ত দ্বন্দ্ব এখানে একইসঙ্গে জাগতিক ও ঐশ্বরিক রূপে প্রকাশ পেয়েছে। একজন শিল্পীর অন্তর্দহন, কাঙ্ক্ষিত শিল্পসৃষ্টি না করতে পারার যন্ত্রণা—যা যেন মৃত্যুর সমান—এই নাটকের কেন্দ্রীয় বক্তব্য। শিল্প স্থান-কাল অতিক্রম করে বৈশ্বিক হয়ে ওঠে বলেই ১৮৯৯ সালে নরওয়েতে রচিত এই নাটক আজও সমসাময়িক বলে মনে হয়। 

শিল্পসৃষ্টির বেদনা সর্বকালের সব শিল্পীর জন্যই অভিন্ন—এই উপলব্ধিই নাটকটি মঞ্চে আনার প্রেরণা জুগিয়েছে। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন কামরুজ্জামান তাপু, এমএইচএস লাবন, নওরীন সাজ্জাদ, মার্শিয়া শাওন, সাগর বড়ুয়া শান, ফকির বিপ্লব, মারজুক আল হাসান, প্রথমা রহমান, সানভি মীর চৌধুরী, রাজন আরিফ, দিবাকর মন্ডল জিতু, শাহরিয়ার ইউসুফ, অভিজিৎ সাহা রুদ্রসহ আরও অনেকে।

শিল্প, সৃষ্টিশীলতা ও মানুষের অস্তিত্বগত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রযোজনাটি ঢাকার মঞ্চনাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য এক নতুন নাট্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ