বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

মা হয়ে এই বিষয়গুলো বুঝতে পারি: আলিয়া ভাট

মা হয়ে এই বিষয়গুলো বুঝতে পারি: আলিয়া ভাট
ছবি: সংগৃহীত

শৈশবে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা আজও বলিউড তারকা আলিয়া ভাটের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। সেই অভিজ্ঞতা তাকে প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকতে শেখায়—গাড়ির পেছনের আসনে বসলেও নিয়ম করে সিটবেল্ট বাঁধেন তিনি। রাস্তায় চলাচলের সময় এখনো তার মনে কাজ করে অজানা এক শঙ্কা, কারণ একটি দুর্ঘটনাই একসময় কেড়ে নিয়েছিল তার জীবনের অত্যন্ত কাছের একজন মানুষকে।

সম্প্রতি ভারতের একটি সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেন আলিয়া ভাট। সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও ভিকি কৌশল। অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।

আলিয়া জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি তার ন্যানিকে (আয়া) একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় হারান। দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী তাকে দেখাশোনা করতেন এবং পরিবারের একজন সদস্যের মতোই ছিলেন। আলিয়ার ভাষায়, তিনি শুধু ন্যানি নন, বরং দিদির মতো একজন আপন মানুষ ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আলিয়া বলেন, একদিন তার ন্যানি সঙ্গীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। সঙ্গীর মাথায় হেলমেট থাকলেও ন্যানির মাথায় হেলমেট ছিল না। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ন্যানি ছিটকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এই দুর্ঘটনা আলিয়ার মনে গভীর মানসিক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় তিনি আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে কাটান। ঘটনার পর থেকে তার পরিবার নিরাপত্তা বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হয়ে ওঠে। আলিয়ার মা সব সময় তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন। এমনকি পরিবারের গাড়িচালককে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালালে চাকরি থাকবে না।

আলিয়া বলেন, মা হওয়ার পর সেই সময়ের ভয়, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তিনি আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন। তার কথায়, “এখন নিজে মা হয়ে এসব বিষয় আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।”

বর্তমানে আলিয়া ভাট জীবনের নতুন অধ্যায় উপভোগ করছেন। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি কন্যা রাহাকে ঘিরে মাতৃত্বের সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এর আগে আলিয়া জানিয়েছিলেন, মেয়ের জন্মের পর তিনি ও রণবীর কাপুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—রাহাকে কখনো একা রাখা হবে না। কখনো তিনি, কখনো রণবীর সন্তানের পাশে থাকবেন। একজন কাজ করলে অন্যজন ছুটি নিয়ে মেয়ের দেখভাল করবেন।