সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

আন্তর্জা‌তিক‌ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৭, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিপুল প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চান, ইরান কি কোনো সীমা লঙ্ঘন করেছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা ট্রাম্প জবাবে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, তারা (ইরান) নিজেরাই এটা শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। সামরিক বাহিনীও সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। আমাদের সামনে কয়েকটি কঠোর বিকল্প রয়েছে। আমরা সময়মতো একটি সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে জানায়, ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

চলমান বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে রয়টার্স এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের সমাজ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ‘প্রতিবাদ জনগণের অধিকার।’ রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জনগণের বিশ্বাস করা উচিত যে আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। বর্তমানে বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক দিনে একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।