শুক্রবার ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২৭ মার্চ ২০২৬

শপথ গ্রহণ করলেন নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী

শপথ গ্রহণ করলেন নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো, যখন ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ (বালেন নামে পরিচিত) দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেন। তাকে সংবিধানের ৭৬(১) ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল।

চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন জয় করে। এই বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও, বালেন্দ্র শাহ একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার আগে একজন জনপ্রিয় র‍্যাপ শিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর করা। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য সাধারণ মানুষ এসব দলকে দায়ী করে আসছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে সংঘটিত ঐতিহাসিক জেন-জি আন্দোলন এই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে শুরু হলেও পরে সহিংস রূপ নেয়। এর ফলেই ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

যদিও বালেন্দ্র শাহ সরাসরি এই আন্দোলনে অংশ নেননি, তিনি প্রকাশ্যে তরুণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান, যা তাকে যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

কাঠমান্ডুতে জন্ম নেওয়া শাহের পারিবারিক শিকড় নেপালের তরাই অঞ্চলে। নেপালের সমাজে ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রের গভীর প্রভাব রয়েছে—দেশটির ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। নতুন কাজ শুরু, বিয়ে বা ধর্মীয় আচার পালনে শুভ সময় নির্বাচন করা এখানে প্রচলিত একটি সংস্কৃতি।

শাহের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও এই সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যায়। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে হিন্দু রীতি অনুযায়ী শঙ্খনাদ, পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠ এবং বৌদ্ধ লামাদের ধর্মীয় আচার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শপথ অনুষ্ঠানে কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বালেন্দ্র শাহ তার নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এখন তার নেতৃত্বে গঠিত সরকার দেশকে একটি স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।