রোববার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বলিভিয়ার সড়কে ফের কৃষকরা

ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বলিভিয়ার সড়কে ফের কৃষকরা
ছবি: সংগৃহীত

বলিভিয়ায় ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন দেশটির কয়েকশ কোকা চাষি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থক। শুক্রবার মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোচাবাম্বায় তারা এই বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। তারা প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজের জারি করা একটি ডিক্রি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। ওই ডিক্রির আওতায় কৃষকসহ বেশি পরিমাণে ডিজেল কেনা ভোক্তাদের জন্য প্রতি লিটারে জ্বালানির দাম ৮০ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট করা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য, প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি পাচার বন্ধ করতেই ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে জ্বালানি পাচারের কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সরকার।

কোচাবাম্বার বিক্ষোভে এক পর্যায়ে এক বিক্ষোভকারী দড়ি দিয়ে একটি ট্রাক্টর টেনে নিয়ে স্লোগান দেন, ‘ডিজেল নেই, ডিজেল নেই!’ ৪০ বছর বয়সী কৃষক এলেনা আইনে বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

গত জুনে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ। সেই জরুরি অবস্থার আওতায় এ ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ। তবে শুক্রবারের বিক্ষোভে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার কোনো চেষ্টা করেনি।

বিক্ষোভের চাপের মুখে বুধবার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষুদ্র কৃষকেরা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি আগের দামেই কিনতে পারবেন। অর্থাৎ তাদের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৮০ সেন্টই থাকছে। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ কমেনি।

গত বছর প্রায় চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন রড্রিগো পাজ। তখন দেশটিতে জ্বালানি ও মার্কিন ডলারের তীব্র সংকট চলছিল। ক্ষমতায় বসার পর তার নেওয়া প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল বিদায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকারের চালু করা জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করা। সরকারের দাবি ছিল, এই ভর্তুকির কারণে দেশের মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছিল।

তবে ভর্তুকি বাতিল ও দাম বাড়ানোর পরও দেশটির পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বলিভিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি এখনও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।

এদিকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস রড্রিগো পাজের অন্যতম কট্টর সমালোচক। বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দেন তিনি।

শুক্রবার রেড আমেরিকা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোরালেস বলেন, বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব খুব বেশি দিনের নয়। তার ভাষায়, ‘এই সরকারের ভবিষ্যৎ খুব বেশি দিন নেই। রাজনীতিবিদ হিসেবে রড্রিগো পাজের ভবিষ্যৎ আরও কম।’

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়