শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ২ অক্টোবর ২০২৬

নেপালে তুষারধসে ১৫ পর্বতারোহী শ্রমিকের মৃত্যু

নেপালে তুষারধসে ১৫ পর্বতারোহী শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

মধ্য নেপালের একটি পর্বতারোহণ শিবিরে ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত ১৫ জন নেপালি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তুষারের নিচে চাপা পড়া বেস ক্যাম্প থেকে বৃহস্পতিবার আরও আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে ঘটে যাওয়া বড় পর্বতারোহণ দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেইন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, গত রোববার ভোরে চীন সীমান্তসংলগ্ন ৭ হাজার ১২৬ মিটার (২৩ হাজার ৩৩৫ ফুট) উচ্চতার হিমলুং শিখরের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পরবর্তী পর্বতারোহণ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে তাঁবু স্থাপন ও রশি বাঁধার কাজ করছিলেন নেপালি কর্মীরা।

তুল সিং গুরুং জানান, বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা মরদেহগুলো হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখনও নিখোঁজ থাকা একজন কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এ কারণে উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। তুষারধসের সময় কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ওই বেস ক্যাম্পে পৌঁছাননি।

উদ্ধারকাজে অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। তাঁরা চার মিটারেরও বেশি (১৪ ফুট) গভীর বরফ খুঁড়ে তল্লাশি চালান। তুষারের নিচে বেস ক্যাম্পের তাঁবুগুলো চাপা পড়েছিল। এর আগে রোববার দুই পর্বতারোহণ গাইড, সোমবার দুই রান্নাঘরকর্মী এবং মঙ্গলবার আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলোর উল্লেখযোগ্য পর্বতারোহণ বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালের এভারেস্ট তুষারধস। ওই ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরের বছর ২০১৫ সালে এভারেস্ট অঞ্চলে ভূমিকম্পের কারণে প্রাণ হারান আরও ১৮ জন।

এদিকে, গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর এখনও নিখোঁজ ও নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব দুর্যোগে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। দেশটির অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সাত হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আসা পর্বতারোহীদের কাছে হিমলুং অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়