মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ১২ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডওয়ার্ড

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডওয়ার্ড
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতির ভিত্তি তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় নীতিনির্ধারণের ভিত্তি গড়ে তোলায় তাদের যৌথভাবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে।

অর্থনীতির গতিপথ সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো প্রবৃদ্ধি বাড়ে, আবার কখনো মন্দার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদের হার নির্ধারণ, সরকারি ব্যয় ও করনীতির মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে সুদের হার কমানো কিংবা সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে চাহিদা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে।

১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও মন্দার পরিস্থিতি প্রচলিত অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করে। অর্থনীতির এসব পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগুলোকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণায় ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনীতির সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবার কীভাবে ভোগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে ভারসাম্য নির্ধারণ করে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে পণ্যের দাম ঠিক করে এবং এসব সিদ্ধান্তের সম্মিলিত প্রভাব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা তাদের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নীতি কীভাবে নির্ধারিত হতে পারে, সে বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিলে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে। এ কারণে অর্থনৈতিক নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নীতিনির্ধারকদের আগাম বার্তা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়