বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:২২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ, জয়-পুতুলসহ আসামি ৮

সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ, জয়-পুতুলসহ আসামি ৮
ছবিঃ সংগৃহীত

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অনুদান, কর-সুবিধা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজন আসামি রয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের অনুকূলে অনুদান গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানটিকে আয়কর সুবিধা দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বরের বিপরীতে কর অঞ্চল-৬, ঢাকার সার্কেল-১১৬-তে সংরক্ষিত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ড জব্দ করা প্রয়োজন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তার।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিআরআইয়ের সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি ও অন্যান্য রেকর্ড জব্দের মাধ্যমে তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়