পদ্মা থেকে ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহে নতুন প্রকল্প হবে : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকা শহরে পানির সরবরাহ বাড়াতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
মাটির নিচের পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকা শহরে সরবরাহের নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এসব ভালো অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সুস্থ থাকতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালাই আহমাদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের ওয়াশ বিভাগের প্রধান পিটার মায়েস।
বক্তারা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। পরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।



























