মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ প‌রিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩৭, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আইএসপিআর জানায়, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু (৫০) নামে একজনকে আটক করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যে ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রাত আনুমানিক ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সঠিক কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় ডাবলু একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে পাশের নিজস্ব কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে রাখা হয়। রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।