মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত প্রায় ২ হাজার

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত প্রায় ২ হাজার
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়ন ও লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই নজিরবিহীন অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়টি স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয়ের মৃত্যুর জন্যই ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা সদস্য—সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) দাবি করে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ জনে। একই সময়ে ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে তেহরানের বিভিন্ন মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ এসব নিহত ব্যক্তিকে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটির ভেতর থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে না এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে আন্দোলনে নামেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস রূপ নেয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির প্রচারণার কথাও প্রস্তাব করেছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা।

এছাড়া সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ‘খুব শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানি নেতারা তার সঙ্গে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন, তবে তিনি সতর্ক করে বলেন—‘বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতিতে ‘যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স